পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ‘মরার উপর খরার ঘা’ মামলা

|

স্টাফ রিপোর্টার, পটুয়াখালী:

টানা তৃতীয় দিনের মতো নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে দেশের বৃহত্তম পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। কয়েক হাজার শ্রমিক বসে অলস সময় পার করছেন। গত মাসের বেতন-বোনাস না হওয়ায় শ্রমিকদের দিন কাটছে অভাব অনটনে। এদিকে মরার উপর খরার ঘা- হিসেবে এসেছে মামলা। বাড়ী থেকে টাকা এনে গত তিনদিন ধরে যারা খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে ছিল; গ্রেফতারের ভয়ে তারাও এখন পালিয়ে গ্রামের বাড়ী চলে যাচ্ছে।

এদিকে সংঘর্ষের পরের দিন বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জেলা ও বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে দিনভর দফায় দফায় বৈঠক শেষে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন ‘দুই পক্ষের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে; আশা করা যায় দুই- এক দিনের মধ্যে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে পারবে।’ কিন্তু আজ তিনদিন হলেও কাজে যোগ দিতে পারেনি শ্রমিকরা।

এদিকে ঈদের আগে থেকে কাজ করার ডাবল বেতন না পাওয়া, আদৌ কাজে যোগ দিতে পারবে কি না- এ নিয়ে সংশয়ে ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছে অধিকাংশ শ্রমিক। তাদের দাবি, কেউ মারা গেলে তাদের পরিচয়পত্র যেন ফেলে না দেয়া, খাবারের মান উন্নত করার পাশাপাশি নিয়মিত বেতন- ভাতা দিতে হবে।

গত ১৮ জুন বিকেলে নির্মানাধীন ভবনের ১৭ তলা থেকে বয়লার থেকে পড়ে নিহত হয় বাংলাদেশী শ্রমিক সাবিন্দ্র চন্দ্র দাস। এরপর তার পরিচয়পত্র লুকিয়ে লাশ গুম করার চেষ্টা করে চীনা শ্রমিকরা। এ নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানার ওসি মোঃ মনির হোসেন জানান, নিহত বাংলাদেশী শ্রমিক সাবিন্দ্র চন্দ্র দাসের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে চীনা শ্রমিকের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসায় এখনও মামলা করতে পারেনি বলে জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের হয়রানি শিকারের কথা স্বীকার করে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যৌথ এবং সুন্দর পরিবেশে যাতে উভয়দেশের শ্রমিকরা কাজ করতে পারে সে বিষয়ে কাজ করছি। শ্রীঘ্রই শ্রমিকরা কাজে মনোযোগ দিবে।









Leave a reply