বাচাঁনো গেল না শপিং ব্যাগে পাওয়া সেই নবজাতককে

|

একজন পুলিশ কর্মকর্তার ক্লান্তিহীন শ্রম আর চিকিৎসক নার্সদের শতচেষ্টার পরও বাচাঁনো গেলনা পটুয়াখালীর দুমকীতে ঝোপের পাশে মরিচক্ষেতে শপিং ব্যাগে পাওয়া সেই নবজাতককে। টানা ১৮ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে শনিবার ভোর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় নবজাতকটি মারা যায়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ছুটে যান নবজাতকের দায়িত্ব নেয়া ক্ষনিকের অবিভাবক পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শেখ বিলাল হোসেন।

যাবতীয় কার্যক্রম শেষে নিয়া আসা হয় পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পূর্বকার্তিকপাশা গ্রামের কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতকের সেই হতদরিদ্র পরিবারের বাড়ীতে। ওই দিন শেষ বিকালে তার নিজ উদ্যোগে জানাযা শেষে দাফন করা হয় সেখানে।

এর আগে জানাযা পড়ানো হয়। জানাযায় সাধারন মানুষের সাথে অংশ নেন একাধিক পুলিশ সদস্যরা।

গত ৪ এপ্রিল দুমকী উপজেলার পূর্বকার্তিপাশা গ্রামের হতদরিদ্র সোহরাব গাজীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম মরিচ ক্ষেতে একটি শপিং ব্যাগের ভিতরে কুড়িয়ে পেয়েছিল নবজাতককে। সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া নবজাতকের অবস্থা এতই নাজুক ছিল যে তাৎক্ষনিক তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।

কিন্তু নবজাতকটির চিকিৎসা নিয়ে দেখা দেয় যথেষ্ট অর্থ সংকট।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন নুরজাহানের হাতে একটি ব্যবস্থাপত্র ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত বরিশাল নিতে পরামর্শ দেয়। ঠিক সেই মুহুর্তে কাকতালিও ভাবে হাসপাতালে হাজির হয় পুলিশের এই কর্মকর্তা শেখ বিলাল হোসেন। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই নবজাতকটির চিকিৎসার দায় দায়িত্ব নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজ উদ্যোগে নবজাতকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে মুমুর্ষ ওই নবজাতককে আই কেয়ার স্ক্যানু বিভাগের ইউনিট-১ শিশু বিশেষজ্ঞ উত্তম কুমারের তত্ত্ববধানে ছিল। পুলিশের পাশাপাশি শেবাচিমের ডাক্তার ও নার্সদের আন্তরিকতায় কোন কমতি ছিলনা।

পুলিশ আর চিকিৎসকের পাশাপাশি টানা ১৮ দিন নবজাতকটিকে সুস্থ্য করতে নিরলস হাসপাতালের বারান্দায় পরে ছিল কুড়িয়ে পাওয়া সেই হতদরিদ্র ছোহরাব গাজী তার স্ত্রী নুরজাহারসহ পরিবারের চার জন সদস্য।

অর্থের সহায়তা পুলিশের ওই কর্মকর্তা করলেও সার্বক্ষনিক পাশে ছিল ওই হতদরিদ্র পরিবারটি। বলতে গেলে মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত রেখে গেলে সেই নবজাতক। যদিও ওই নবজাতকের পাষন্ড বাবা-মায়ের সন্ধান এখনও মেলেনি।









Leave a reply