প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা চাঁদের কণা কি হেরে যাবেন?

|

স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ :

চাঁদের কণা। সিরাজঞ্জের কাজিপুরের বিয়াড়া প্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে। ৯ মাস বয়স থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বড় হন চাঁদের কণা। পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারতেন না। হাতের উপর ভর দিয়েই চলাফেরা করতো হতো। কিন্তু দমে যাননি তিনি। জয় করেছেন প্রতিবন্ধকতাকে।

এগিয়ে গেছেন মনের আর পরিবারের শক্তিতে। শুরু করেন পড়ালেখা। স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে রাজশাহী মাদার বক্স গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে অর্নাসে ভর্তি হন। কৃতিত্বের সাথে অর্নাস শেষ করে ইডেন কলেজে ভর্তি হন মার্স্টাসে। ২০১৩ সালে প্রথম বিভাগ নিয়ে মার্স্টাস সম্পন্ন করেন।

চাঁদের কণা জানান, স্কুল থেকে শুরু করে পড়াশোনার এ পর্যায়ে আসতে তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে নানা বাঁধা। অর্নাসে তার ক্লাস হতো ৫ তলায়। কিন্তু কলেজে লিফট ছিলো না। তাই ক্লাসরুমে আসতে সময় লাগতো দেড়ঘণ্টা। সকাল ৯টার ক্লাসে তাকে কলেজে যেতে হতো ৭টার দিকে।

এই অদম্য প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আরো জানান, পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন সরকারি চাকরি করবেন। সে অনুযায়ী চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু চাকরি চাঁদের কণার হাতে ধরা দেয়নি। এদিকে বয়সও শেষ। তাই তিনি চাকরির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সহায়তা চাওয়াসহ হুইল চেয়ারের চারপাশে ঝুলিয়েছেন ২০টি প্ল্যাকার্ড।

তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, মাত্র নয় মাস বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে দুই পায়ের কার্যক্ষমতা হারান চাঁদের কণা। অনার্স ১ম বর্ষে থাকার সময় স্কুলশিক্ষক মা হাসনা হেনা বেগমকে হারান। এর কয়েক বছর পর তার বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এবং বাবার অসুস্থতাজনিত কারণে তার জীবনে প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে নেমে আসে চরম দরিদ্রতা। অবশেষে পড়ালেখার খরচ জোগাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সামান্য বেতনে চাকরি নেন তিনি। শত কষ্টের মাঝেও গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে সফলতার সঙ্গে অর্জন করেন উচ্চতর ডিগ্রি।

চাঁদের কণা জানান, পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন। ভারোত্তোলন থেকে শুরু করে টিভি-রেডিও’তে সংবাদ পাঠ; টিভি প্রোগ্রাম গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনা; নাটক, গল্প ও কবিতা লেখা; অভিনয় করা ও কবিতা আবৃতি করা; গল্প বলা; ছবি আঁকা এবং কম্পিউটারে সব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।









Leave a reply