সড়ক পাকা না হওয়ায় ধানের চারা রোপণ!

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে ধাপেরহাট গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিনেও মেরামত কিংবা সংষ্কার না হওয়ায় সড়কে ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সাদুল্যাপুর-ধাপেরহাট সড়কের ধাপেরহাট পল্টন মোড়ের অদূরে মসজিদ সংলগ্ন এলাকার সড়কে চারা লাগিয়ে প্রতিবাদ জানায় এলাকাবাসী। ধাপেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের উদ্যোগে সড়কে চারা রোপণে অংশ নেয় স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ পথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, সাদুল্যাপুর থেকে ধাপেরহাট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে পিচ কাপেটিং উঠে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। সবচেয়ে বেহাল অবস্থা সাদিপাড়া, হিংগারপাড়া স্কুল-কলেজের সামনে, আজগর আলী কলেজের সামনে, জামে মসজিদের সামনে, পল্টন মোড়, মন্দির ও ফাইভ স্টার মোড় পর্যন্ত। এসব জায়গায় সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে বর্ষায় পানি জমে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন এ পথে অসংখ্য রিকশা, ভ্যান, সিএনজি, মোটরসাইকেল চলাচল করে। এছাড়া এলাকার উৎপাদিত কাচা পণ্যে আনা নেয়া করতে ছোট বড় বেশ কিছু ট্রাক চলাচলও করে।

প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, হিংগারপাড়া স্কুল এ-, আজগর আলী ডিগ্রী কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এ পথেই চলাচল করে। কিন্তু ভাঙা, গর্তে ভরপুর সড়কে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ যাত্রী সাধারণকে। বারবার রাস্তা মেরামত ও সংষ্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নেয়নি। বাধ্য হয়ে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সড়ক সংষ্কারের দাবি জানিয়ে চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানায়।

সড়কে চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানানোর এমন উদ্যোগের বিষয়ে ধাপেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা আল মামুন বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থা হলেও মেরামতে কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বর্ষায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় হাটু পানি জমে থাকে। পিচ-কাপেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টিতে সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে চলাচলে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, চাকুরীজিবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে। দুর্ভোগে যেমন অতিষ্ঠ তেমনি সড়কটি মেরামত না হওয়ায় এলাকার মানুষ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানানো হয়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এমন আয়োজন হলেও শিক্ষার্থীসহ এলাকার বাসিন্দারা স্বতর্ফুত অংশ নেয়’।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়জুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল অবস্থায় চলাচল করতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তাছাড়া বর্ষায় গর্তে পানি আর কাদায় পরিপূর্ণ সড়কে চলাচল বেশ ঝুঁকি হয়ে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। সপ্তাহে দুইদিন ধাপেরহাটে হাটবার ছাড়া প্রতিদিন কয়েকটি ইউনিয়ন, সাদুল্যাপুর উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলার মানুষও এ পথে চলাচল করে থাকেন। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে চলাচলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি’।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সদস্য ও ধাপেরহাট বিএম কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ এসএম রহমান বলেন, ‘সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে কিছুদিন আগে নিজের অর্থে সড়কের ভাঙা ও গর্তগুলো তে ইটের রাভিশ (পিকেট) ফেলেছি। এতে কিছুটা উপকার হলেও এখন পুরো সড়কের বেহাল অবস্থায় চলাচল মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো ভর্তিসহ কাঁদায় পরিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে যানবাহন চালকসসহ সাধারণ মানুষের। তবে সড়কেটি দ্রুত সংস্কার করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন তিনি’।

সড়কে চলাচলে মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে সদ্য বদলি হওয়া সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জের হরিপুর ঘাট থেকে লক্ষীপুর-সাদুল্যাপুর হয়ে ধাপেরহাট সড়কটি সম্প্রসারণ ও পাকা করণের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। অধিগ্রহণের বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে সড়কটি পাকা করণের কাজ শুরু হবে। তবে সাদুল্যাপুর টু ধাপেরহাট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার করতে একটি প্রস্তাবনা চলতি বছরের শুরুতেই পাঠানো হয়েছে। প্রস্তবনাটি অনুমোদন হলে প্রক্রিয়া অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বানের পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে’।









Leave a reply