বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শশী কাপুর আর নেই


চলে গেলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শশী কাপুর। সোমবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের ‘কোকিলাবেন’ ‘হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

বলিউডের প্রভাবশালী ‘কাপুর পরিবার’র সদস্য শশী কাপুরের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায়। বাবা পৃথ্বীরাজ কাপুর মঞ্চ ও রুপালী পর্দার দাপুটে অভিনেতা। বড় ভাই রাজ কাপুর তো বলিউডের গ্রেটেস্ট শো ম্যান। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে শশী প্রবেশ করেন রূপালি জগতে। তার শুরুটা হয় শিশু শিল্পী হিসেবে। আগ ছবিতে রাজ কাপুরের চরিত্রের শৈশবের ভূমিকায় অভিনয় করেন। আওয়ারা ছবিতে শিশু চরিত্রে তার অভিনয় সবার নজর কাড়ে।

তরুন শশী কাপুরের চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু হয় যশ চোপড়ার ধর্মপূত্র ছবি দিয়ে। তবে তিনি নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান ১৯৬৫ সালে। সেই বছর মুক্তি পায় যশ চোপড়ার তারকাবহুল ছবি ওয়াক্ত এবং জাব জাব ফুল খিলে। শেষের ছবিতে বলিউড খুজে পায় এক রোম্যান্টিক হিরোকে। পুরস্কারও মেলে ঢের।

এরপর হাসিনা মান জায়েগি, পেয়ার কা মওসাম, কন্যাদানের মতো চলচ্চিত্র তাকে প্রতিষ্ঠিত করে স্বতন্ত্র পরিচয়ে। সত্তরের দশকে যখন রাজেশ খান্না আর অমিতাভ যুগের শুরু, সেখানেও শশী কাপুর ছিলেন নিজস্ব ঔজ্জল্যে ভাস্বর। অমিতাভের সাথে অনেকগুলো ছবিতে একসাথে কাজ করেন তিনি। এর মধ্যে দিওয়ার, কাভি কাভি, সুহাগ, নমক হালাল, সিলসিলার মতো ছবি আজও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। দিওয়ার ছবিতে শশী কাপুর জেতেন জীবনের প্রথম ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার।

বলিউডের বাণিজ্যিক ধারার ছবি দিয়ে বেশি পরিচিত হলেও শশী কাপুর তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ছিলেন বিকল্পধারার সিনেমার জন্য নিবেদিত। মার্চেন্ট আইভরি প্রোডাকশনের অনেকগুলো ইংরেজি ছবিতে অভিনয় করেন শশী কাপুর। যার মধ্যে শেক্সপিয়ারওয়ালা, বোম্বে টকি, সিদ্ধার্থ বেশ আলোচিত।

কাপুর পরিবারের বাকি সদস্যের মতো অভিনেতা শশী কাপুর এক পর্যায়ে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় নামেন। সেখানে তিনি যেন নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছে। তার প্রযোজিত ভিন্নধর্মী ছবি জুনুন ও কলিযুগ শ্রেষ্ঠ জাতীয় চলচ্চিত্রের পুরস্কারে ভূষিত হয়। এর পাশাপাশি নিউ দিল্লি টাইমস ছবির জন্য জিতেছেন সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার।

ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১১ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্ম ভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করে। বাবা পৃথ্বীরাজ কাপুর ও ভাই রাজ কাপুরের পর পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে ২০১৫ সালে লাভ করেন ‘দাদা সাহেব ফালকে’ পুরস্কার।

১৯৫৬ সালে বাবার গড়া পৃথ্বীরাজ থিয়েটারে কাজ করার সময় কলকাতায় তার পরিচয় হয় ইংলিশ অভিনেত্রী জেনিফার কেন্ডালের। প্রথম দর্শনেই প্রেম। বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি দেশ ধর্ম আর বয়সের তারতম্য। দু বছরের মাথায় তারা বিয়ে করেন। দুজনে এক সাথে অনেকগুলো ছবিতে অভিনয় করেছে। অবশ্য সবই ইংরেজি ছবি। ১৯৮৪ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জেনিফার। তার মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েন শশী। নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেন, অনিয়মিত হয়ে পড়েন চলচ্চিত্রে।

শেষ ২০ বছর তাকে আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি। গত ৫ বছর ধরেই ফুসফুস ও লিভারের নানান রোগে ভুগছিলেন শশী কাপুর। ৩ ডিসেম্বর ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরদিনই তার মৃত্যু হয়।

 

 

যমুনা অনলাইন: আরএ/টিএফ









Leave a reply