সারারাত যমুনায় ভেসে প্রাণ নিয়েই তীরে ভিড়লো মমতা!

|

বগুড়া ব্যুরো ও স্টাফ করেসপনডেন্ট, জামালপুর:

বুধবার রাত ৮টায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ২৯ যাত্রীসহ নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ শিশুকন্যা মমতা ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়েছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর তীর থেকে।

পারভিন বেগম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা চন্দনবাইশার ঘুঘুমারি এলাকায় শিশুটিকে নদীতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। সারারাত যমুনা নদীতে ভেসে থাকা শিশু মমতা এখন সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ঘুঘুমারী শেখ পাড়া গ্রামের পারভীন বেগম যমুনা নিউজকে জানান, সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পাশে যমুনা নদীর তীরে তিনি শিশুটিকে ভাসতে দেখে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা সদরে নিয়ে আসেন, ভর্তি করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। হাসপাতালের প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি এখন আশঙ্কামুক্ত।

সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল আমিন যমুনা নিউজকে জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত জ্ঞান না থাকায় শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিলো না। ১২টার পর জ্ঞান ফিরলে সে জানায়, তার নাম মমতা আকতার বিথী, বাবার নাম মইন উদ্দিন, বাড়ি জামালপুরে। এরপর আবারো জ্ঞান হারায় মমতা।

বুধবার রাতে জামালপুরের চর হলকা হাওড়াবাড়ী এলাকায় যাবার পথে যমুনা নদীর টিনের চর এলাকায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ছিলো ৫ জন। তাদের মধ্যে ৭ বছর বয়সী একজন শিশুও ছিলো। এই তথ্য সূত্রে যমুনা নিউজের সঙ্গে কথা হয় চর হলকা হাওড়াবাড়ীর বাসিন্দা মইন উদ্দিনের। তিনি জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ত্রাণ আনতে গিয়েছিলো তার শিশুকন্যা মমতা আকতার বিথী। বাড়ি ফেরার পথে নৌকাডুবিতে অন্যদের সঙ্গে সেও নিখোঁজ হয়।

সারিয়াকান্দি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মমতার ছবি জামালপুরের গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে পাঠানো হলে সেটি দেখে মইন উদ্দিন নিশ্চিত করেন উদ্ধার হওয়া শিশু তার কন্যা মমতা বিথী। পরে তিনি বগুড়ার গনমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার রেজাউন নাহার ঊর্মির সাথে কথা বলে মমতার শারীরিক অবস্থাও জানেন।

দুপুর ২টার দিকে মমতার দাদা নজরুল ইসলাম ও চাচা আবদুল আওয়ালসহ স্বজনরা জামালপুর থেকে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। প্রমত্তা যমুনায় নিখোঁজের এতো সময় পরও শিশু মমতার প্রাণ নিয়ে তীরে ভেরা যেনো চমকে দিয়েছে শোক-দুশ্চিন্তাগ্রস্ত স্বজনসহ স্থানীয়দের।

ত্রাণ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মমতাদের বহনকারী নৌকা টিনের চর এলাকায় ডুবে যাবার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় এ পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হয়েছে ২৩ জন। ৮ বছর বয়সী একজন শিশুসহ এখনো নিখোঁজ ওই নৌকার ৬ যাত্রী।









Leave a reply