শোক দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী মেজবান অনুষ্ঠিত

|

স্টাফ রিপোর্টার,গোপালগঞ্জ:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪-তম শাহাদাত বার্ষিকীতে টুঙ্গিপাড়ায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান আয়োজন চলছে। মেজবানের আয়োজন চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদীতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেজবানের খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন শুরু করা হয়।

টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে মুসলিমদের জন্য প্রায় ৩০ হাজার লোকের মেজবানের খাওয়ার আয়োজন করা হয়। পার্শ্ববর্তী বালিয়াডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রায় ১০ হাজার লোকের জন্য আয়োজন করা হয়। উভয় স্থানে বিশাল আকৃতির প্যান্ডেল চলছে খাওয়া-দাওয়া। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ইটের সারি সারি চুলায় বড় বড় ডেগে চলছে রান্নার কাজ। চট্টগ্রাম থেকে প্রধান বাবুর্চি ও তার সহকারীরা রান্নার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে চলছে আগত মানুষকে খাওয়ার কাজ। আর আপ্যায়নের কাজে নিয়োজিত আছে চট্টগ্রাম থেকে আসা কয়েক’শ নেতা-কর্মী।

আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে মেজবান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেজবানে খাওয়ানো হবে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন এই মেজবানের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটের জাহিদুর রহমান (৫৫) বলেন, প্রায় প্রতিটি ১৫ আগস্ট তিনি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। আর প্রয়াত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মেজবানে অংশ নেন। এখানে তিনি তৃপ্তির সাথে মেজবানের খাবার খেয়েছেন। প্রয়াত নেতার পরিবার এখনও মেজবান চালিয়ে যাওয়ায় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রসঙ্গত, বিগত ২৬ বছর আগে টুঙ্গিপাড়ায় আয়োজন করেছিলেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান। যা আজ জাতীয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

বিগত ২৬ বছর ধরে জাতীয় শোক দিবসে ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন হতো চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে। মাথায় হুলিয়া নিয়ে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সাধ্যমতো সাধারণ মানুষের জন্য আপ্যায়নের আয়োজন করতেন প্রয়াত এ নেতা।









Leave a reply