চীন বিষয়ক নীতি নির্ধারণী পদে উইঘুর নারীকে নিয়োগ দিলো যুক্তরাষ্ট্র

|

যুক্তরাষ্ট্রের চীন বিষয়ক নীতি নির্ধারণী একটি পদে চীনের নির্যাতিত উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের এক নারীকে নিয়োগ দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। অনেকটা নীরবে সম্প্রতি এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়।

বিষয়টিকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে যখন দেশটির জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তখন এমন পদে একজন উইঘুরের নিয়োগ বেশ চমকপ্রদ।

নিয়োগপ্রাপ্ত নারীর নাম এলিনগার ইলতেবির। তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। এলিনগারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চীন বিষয়ক পরিচালক হিসেবে।

এই পদে থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং হোয়াইট হাউজের সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকে চীন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কী কেমন হবে তা নিয়ে পরামর্শ দেবেন এলিনগার। এছাড়া গৃহীত নীতিগুলোর বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ক হিসেবেও কাজ করবেন তিনি।

হংকংয়ের সিটি ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সীন স্টার্স বলেছেন, এই নিয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের ওপর আরও চাপ বাড়ালো। অর্থাৎ, এটা বুঝিয়ে দেয়া হলো যে, চীন বিষয়ে মার্কিন নীতি অনেক বদলে গেছে। তার মতে, ট্রাম্প এটা বুঝাতে চান যে, আগের প্রেসিডেন্টরা চীনের প্রতি বেশি সদয় ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প বেশ শক্তভাবে চীনকে মোকাবেলা করতে চান।

সিডনি ইউনিভার্সিটির ইউএস স্টাডিজ সেন্টারের উপদেষ্টা জ্যারেড মনডেশিন বলেন, আগে একই পদে ব্যক্তিরা চীন বিষয়ক নীতি নির্ধারণী বিষয়াদিতে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট ও কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করতেন।

তিনি আরও বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। বিশেষ করে বর্তমান প্রশাসন যেভাবে চীনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সেটা বিবেচনায়। এলিনগারের জাতিগত পরিচয়ের কাউকে টেবিলে রাখা (চীনাদের সাথে বৈঠকে) আসলেই খুবই শক্তিশালী একটা বিষয়।”

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।









Leave a reply