×
Logo

অর্থনীতি

টেলিকম আইন ও নীতিমালা: পর্যালোচনার দাবি উদ্যোক্তাদের

মাসুদুজ্জামান রবিন

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

টেলিকম আইন ও নীতিমালা: পর্যালোচনার দাবি উদ্যোক্তাদের

চব্বিশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তবর্তী সরকারের হাত ধরে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশকিছু সংস্কার করা হয়েছে। এর আওতায় টেলিযোগাযোগ খাতের আইন ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। টেলিকম খাতে নতুন নীতিমালা ও বিধি-বিধান— বিশেষ অপারেটর ও সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ সুবিধার পথ উন্মোচন করেছে বলে মনে করেন প্রযুক্তিবিদরা।

তাদের অভিমত, তাড়াহুড়া করে আইন ও নীতি পরিবর্তন করায় এ খাতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম বলেছেন, পলিসিটা রিভিউ হয়ে গেলে আমরা তখন দেখবো যে টেলিকম আইনে কোথায় কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে তখন গাইডলাইন ও কনসালটেশনের মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়গুলো আসবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা যেটা দেখেছি, তাড়াহুতো করে আইনটা পরিবর্তন হয়েছে। সেখানে সমসাময়িক যেসব বিষয়গুলো আসা উচিত ছিল, সেগুলো আসেনি।

গত দেড় বছরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সম্প্রসারণে পথ সংকুচিত হয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্সিং নীতিমালায় বিতর্কিত বিধি-বিধানের বিষয়ে উদ্যোক্তারা আপত্তি তুললেও তাতে গা করেনি বিদায়ী সরকার। নতুন সরকারের কাছে তাই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পথ নকশা চান তারা।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, যেগুলো আবার নতুন করে রিভিউ করা উচিত; নতুন সরকার যারা আসছেন, উনাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে এই পলিসিটিটা আগামী ১৫-২০ বছরের জন্য বহাল থাকবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা যারা বিনিয়োগকারী আছি কিংবা এখন পর্যন্ত এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি, তারা দীর্ঘমেয়াদী একটা পরিকল্পনা করতে পারবো। 

বিগত সরকারের শেষ সময়ে অনুমোদন পাওয়া টেলিকম আইন নিয়ে উদ্যোক্তা, অপারেটর— এমনকি খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থারও আছে আপত্তি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতাকে খর্ব করা এই আইন পূণর্বিবেচনার পরামর্শ প্রযুক্তিবিদদের।

শাহেদ আলম বললেন, যেই নীতিমালাই আনা হোক না কেন সেটা একটা অপারেটরকে শুধুমাত্র সুবিধা দেওয়া হয়, আমাদেরকে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদেরকে বাজার প্রতিযোগিতায় গুরুত্ব দিতে হবে। একটি বা দুইটি অপারটের নয়, ভোক্তাদের জন্য গুরুত্ব দিতে হবে। এই জায়গায় আমরা অনেক ক্ষেত্রে গ্যাপ দেখি।

এম এ হাকিম বলেন, যে পরিমাণ ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে, এটা পুনঃবিবেচনা করা উচিত। নতুন লাইসেন্স করতে গেলে বিভিন্ন ধাপে ভেরিফিকেশন দরকার, বিভিন্ন ধাপে যে অনুমোদন প্রক্রিয়া দরকার এটা আসলে দীর্ঘমেয়াদী এবং আল্টিমেটটি টেলিকম খাতে স্থবিরতা চলে আসবে। 

এদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, ডিজিটাল সার্বভেৌমত্ব গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় উদ্যোক্তাবান্ধব নীতি প্রণয়ন চান খাত সংশ্লিষ্টরা।

/এমএন

Logo