শুরুতেই ত্রুটি: কাল আসছে না ‘রাজহংস’

|

আব্দুল্লাহ তুহিন, বিশেষ প্রতিনিধি:

রাডার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া চতুর্থ ড্রিমলাইনার আসছে না কাল। আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য আরো ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা ছিলো বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত সম্পূর্ণ নতুন ৪র্থ ও শেষ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘রাজহংস’। সব কিছু ঠিক থাকলে ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছবে “ রাজহংস”। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ শনিবার সকাল ১১:০০ টায় ৪র্থ ড্রিমলাইনারটি উদ্বোধন করতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছিলেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলো বিমান কতৃপক্ষ। “রাজহংস” আসার পর পরবর্তী উদ্বোধনের দিন ঠিক করা হবে।

এটি যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬টি। দেশে পৌঁছার পর ড্রিমলাইনারকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে। বিমানটি দেশে আনতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি প্রতিনিধি দল সিয়াটলে বোয়িং কোম্পানির এভারটে ডেলিভারী ও অপারেশন্স সেন্টারে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহিরা খন্দকার।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় । ইতোমধ্যে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ও ৩টি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ বিমান বহরে যুক্ত হয়ছে। ৪র্থ এবং শেষ উড়োজাহাজ ‘রাজহংস’ যোগ দেয়ার পর সম্পাদিত চুক্তির আওতায় ১০টি উড়োজাহাজের সবকটি বিমান বুঝে পাবে বাংলাদেশ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া চারটি ড্রিমলাইনারের নাম পছন্দ ও বাছাই করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগুলো হলো আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস। উল্লেখ্য, এর আগে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ইআর এগুলোর নামও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া। সেগুলো হলো- পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত এবং ময়ূরপঙ্খী।

টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম এই ড্রিমলাইনার চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানী লাগবে। ‘রাজহংস’-এর আসন সংখ্যা ২৭১টি। বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সর্ম্পূণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে স্বাচ্ছন্দ্যর সাথে ভ্রমণ করতে পারবেন। বিমানটিতে যাত্রীরা অন্যান্য আধুনিক সুবিধা, ইন্টারনেট ও ফোন কল করার সুবিধাও পাবেন।

সম্প্রসারিত বহর দিয়ে বিমান তার চলমান রুটসমূহে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে। সেই সাথে নতুন গন্তব্য সংযোজন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ১৩ মে, ২০১৯ ঢাকা-দিল্লী রুট চালু হয়েছে, ২৮শে অক্টোবর, ২০১৯ মদিনা এবং নভেম্বর, ২০১৯ গোয়াংজু নতুন রুট চালু হবে। এছাড়াও আগামীতে ম্যানচেস্টার, কলোম্বো, মালে, টোকিও এবং নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন বিমানের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল ইনামুল বারী।

এছাড়াও এই ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিমান কানাডা কমার্শিয়াল কোম্পানী হতে স্বল্প পাল্লার ০৩টি নতুন ড্যাশ৮- কিউ৪০০ ক্রয় করেছে, যা ২০২০ সালের মার্চ-জুন মাসের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হবে।









Leave a reply