গান আমার কাছে নেশার মতো: জেমস

|

দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জেমস। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। তিন যুগের বেশি সময় ধরে গানের জগতে বিচরণ করছেন। দর্শক শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। বলিউডেও গান গেয়ে কুড়িয়েছেন ব্যাপক প্রশংসা। জনপ্রিয় এই ব্যান্ড তারকার আজ জন্মদিন। গত বছরের এই দিনে তিনি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, পাঠকের জন্য আবার তুলে ধরা হলো । সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান সাইদুল।

* জন্মদিন কীভাবে উদযাপন করবেন?

** আমার কাছে জন্মদিনের কোনো বিশেষত্ব নেই। প্রতিদিনই বেঁচে আছি। ভক্তরা আমাকে ভালোবেসে দিনটি উদযাপন করেন। কেক কাটেন। এতেই আমি খুশি।

* গান আপনার কাছে আসলে কী?

** একটি নেশা। গান আমার কাছে নেশার মতো। নেশা হিসেবে নিয়ে এখন পেশা হয়ে গেছে।

* তিন যুগের বেশি সময় গানের জগতে আছেন। দীর্ঘ এই সময়ে কী দেখলেন, কী শিখলেন?

** বিচিত্র একটি জগৎ, সময়-অসময় আছে। দীর্ঘ পরিক্রমায় অনেক পরিবর্তন দেখেছি। শিখেছিও অনেক কিছু। বাংলা গানকে অনেকেই একটি অবস্থানে আনার চেষ্টা করেছেন। এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

* বেশিরভাগ সময়ই অন্তরালে থাকেন আপনি। কারণ কী?

** কোনো কারণ নেই। আমার ভালো লাগা কিংবা খারাপ লাগা- সবই আমার। বাইরে বের হতে ভালো লাগে না। তাছাড়া আমার কাজ গান করা, আমি তাই নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাই।

* নাকি গণমাধ্যমের ওপর কোনো অভিমান?

** কোনো অভিমান নেই। আমি শিল্পী। গান গাওয়া আমার কাজ। আমার কাজে আমি ব্যস্ত থাকি সব সময়।

* শিল্পীর কাছ থেকে দর্শক-শ্রোতারা শুধু গান আশা করবেন- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক সময় শিল্পীদের ব্যক্তিগত বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

** এই আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই। এটি শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে হচ্ছে। তারকাদের নিয়ে মানুষের বিশেষ আগ্রহ থাকে। তাই আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনাও থাকবে। তবে সবাইকে যার যার অবস্থানে যে কোনো বিষয়ে সঠিক চর্চা করা উচিত।

* বর্তমানে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা থাকা সত্ত্বেও গান ভিউতে আটকে থাকে। মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় না। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?

** কেন হয় না এটা তারাই ভালো জানেন। আমি শুধু আমার কথাই জানি। গান হচ্ছে খাবারের মতো। খাবার যেমন ভালো হলে মানুষ খায়, গানও ভালো হলে মানুষ শুনেন এবং নিজে নিজে গেয়ে ওঠেন। ঢাকার একটি বিখ্যাত বিরিয়ানির নাম শুনেছেন অনেকে। কিন্তু কখনও পোস্টার দিয়ে তাদের প্রচার করতে হয়নি। মানুষ খেয়ে অন্যকে বলছে ভালো, অন্যরাও পরে খেতে গেছে। গানও ঠিক তেমনই। একজন গাইবেন, অন্যের শুনতে ভালো লাগবে, তারপর তিনিও কণ্ঠে তুলবেন। গাইতে গাইতে গানের প্রচার হবে। ভালো গান মানুষ গাইবেই।

* এখন তো কপি-পেস্টেরও প্রভাব দেখা যায় ইন্ডাস্ট্রিতে…

** আগেও ছিল। আগে এসব কঠিন ছিল। এখন সব কিছুই সহজ। ভালো যেখানে সেখানে মন্দ থাকবেই।

* বর্তমানে যে গান হচ্ছে তাতে কথার ঘাটতি বিশেষভাবে পরীলক্ষিত। কারণ কী?

** এখন যে শিল্পীরা গান করছেন তারা তাদের মনমতো করছেন। তাদের ভালো লাগা থেকে করছেন। এখনকার গান তেমন শোনা হয় না আমার।

* ‘ভিগি ভিগি’, ‘রিশতে’র মতো হিট গানের পর বলিউডে আর আপনার গান পাওয়া যায়নি। তার কারণ কী?

বলিউড তো আমার জায়গা নয়। তারা যখন তাদের চাহিদামাফিক কিছু প্রয়োজন মনে করেন, তখন আমাকে ডাকেন। আর পেশাদারভাবে কাজ করার জন্য আমার জায়গা বাংলাদেশ। আমি বাংলাদেশ নিয়ে থাকতে চাই। ওদের যখন প্রয়োজন হবে আবার আমাকে ডাকবে তখন হয়তো যাব।

* আপনার নতুন কোনো গান বের হচ্ছে না। শ্রোতারা তো নতুন গান চাইছেন?

** শ্রোতারা চাইলে তো হবে না। আমার ভেতর থেকে গান আসতে হবে। আমি তো তারকা হওয়ার জন্য গান গাই না। আমার ভেতর থেকে সুর আসতে হবে। এ পর্যন্ত যে গান করেছি সেগুলো লাইভে গেয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চাই।

* বাংলাদেশীয় গানে জেমস-বাচ্চু দ্বৈত অ্যালবামের সফল জুটি। তাদের নতুন অ্যালবাম শ্রোতারা পাবে কি?

** এসব নিয়ে এখন ভাবি না। সামনে শ্রোতারা পেতেও পারেন। তবে আমি এখন মঞ্চ ছাড়া কিছুই বুঝি না। মঞ্চে গান গাইতে ভালো লাগে।

* রাজনীতিতে আসছেন বলে গুঞ্জন রটেছে…

** আমি রাজনীতি নিয়ে ভাবি না। গানের মানুষ, গান নিয়ে আছি। রাজনীতি আমার বিষয় নয়।

* নতুন গায়কদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?

** চর্চা ছাড়া কিছু হবে না। যে কোনো কাজেই সফলতা আসবে চর্চার মাধ্যমে। আমি গান শিখেছি। এখনও শিখছি। শেখার কোনো শেষ নেই। কেউ যদি বলে আমার শেখা শেষ তবে সেই শেষ। তাই নতুনদের বলব, চর্চা করে যাও। সঙ্গীতে চর্চার কোনো বিকল্প নেই। আর যদি শুধু নাম-যশের জন্য সঙ্গীতে এসে থাক, তবে সঙ্গীত এখনই ছেড়ে দাও।

* অবসরে কী করেন?

** গান শুনি। বই পড়ি। বর্তমানে ‘বনসাই’ বইটি পড়া শুরু করেছি।

* ভক্ত-শ্রোতাদের উদ্দেশে কী বলবেন?

** যেখানে তোমরা থাকবে সেখানে আমার সুর পাবে। কথা দিলাম চিরকাল সঙ্গে রব। মনে রেখ কেবল একজন ছিল, যে ভালোবাসত শুধু তোমাদের।









Leave a reply