করোনাভাইরাস নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

|

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনও উদ্ভাবন হয়নি। তবে প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য দুরন্ত গতিতে গবেষণা চলছে। করোনার প্রতিষেধক তৈরির কাজ চলছে অন্তত ২০টির বেশি দেশে।

প্রতিদিন বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় করোনা নিয়ে মানুষের মাঝে বেশ উদ্বেগ রয়েছে। করোনার বিস্তার এবং কীভাবে এই সংক্রমণ ঠেকানো যাবে তা নিয়ে মানুষের মনে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

করোনা থেকে সেরে উঠলে এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হবে?

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সেরে উঠার পর এই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হবে কি না তা এখনই বলা কঠিন। তবে অন্যান্য ভাইরাস এবং করোনাভাইরাসের আগেকার সংক্রমণগুলো থেকে নেয়া অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যেতে পারে – এধরনের ভাইরাসে একবার আক্রান্ত হলে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সেই অ্যান্টিবডি ভবিষ্যতে একইধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা গড়ে তোলে।

তবে চীন ও জাপান থেকে পাওয়া কিছু খবরে জানা গেছে সেখানে আক্রান্ত কিছু রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার পর যারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন পরীক্ষায় তারা আবার পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। কিন্তু এখানে উল্লেখযোগ্য হল, পজিটিভ হলেও তারা কিন্তু অন্যকে সংক্রমিত করবে না।

করোনাভাইরাসের ইনকিউবেশন সময় কতদিন?

বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ভাইরাস শরীরে ঢুকলে উপসর্গ দেখা দিতে সময় লাগে গড়ে পাঁচ দিন। কিন্তু কারো কারো ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিতে সময় লাগতে পারে আরও বেশি দিন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইনকিউবেশন কাল অর্থাৎ যে সময়টি কোন ভাইরাস মানুষের শরীরে থাকে কিন্তু তার কোন লক্ষণ দেখা যায় না, সেই ইনকিউবেশনের সময়টা কোভিড-১৯-এর জন্য হল ১৪ দিন পর্যন্ত।

কিন্তু কোন কোন গবেষক বলছেন এই সময়টা ২৪ দিন পর্যন্তও হতে পারে। অর্থাৎ জীবাণু আপনার শরীরে সুপ্ত অবস্থায় এই সময়কাল থাকতে পারে।

আক্রান্ত হলে কতদিন এই রোগ থাকে?

প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতই। এতে জ্বর আসে, শুকনো কাশি হয়। লক্ষণ প্রকাশ পাবার পর সপ্তাহখানেক আপনি অসুস্থ বোধ করবেন।

কিন্তু ভাইরাস যদি আপনার ফুসফুসে বেশ চেপে বসে তাহলে আপনার শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়া হতে পারে। আক্রান্ত প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনের হয়ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হতে পারে।

হাঁপানি রোগীদের জন্য করোনাভাইরাস কতটা ঝুঁকির?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যাদের খুব বেশি হাঁপানি হয়, তাদের জন্য এই ভাইরাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ যাদের হাঁপানি আছে তাদের করোনাভাইরাসের মত জীবাণুর সংক্রমণ হলে তাদের হাঁপানির লক্ষণগুলো শুরু হয়ে যাবে।

আর সে কারণেই হাঁপানি (অ্যাজমা) বা এধরনের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা যাদের আছে, চিকিৎসকরা তাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

মাস্ক পরা কি উচিত?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন সাধারণ মানুষ মাস্ক পরে খুব একটা লাভ পাবেন না। তবে যারা চিকিৎসা সেবা যারা দিচ্ছেন তারা অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

ইংল্যান্ডে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শদানকারী সংস্থা পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড বলেছে তারা ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছে না’।

আক্রান্ত ব্যক্তির হাতে তৈরি খাবার থেকে কি সংক্রমিত হতে পারেন?

আক্রান্ত কোন ব্যক্তি যদি স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে রান্না বা খাবার তৈরি না করেন তাহলে সেই খাবার থেকে আপনার আক্রান্ত হবার আশঙ্কা থাকতে পারে। মানুষ যখন কাশে তখন সেই কাশির সঙ্গে যে সূক্ষ্ম থুতুকণাগুলো বেরিয়ে আসে যেটাকে ‘ড্রপলেট’ বলা হয়, সেগুলো যদি আপনার হাতে পড়ে আর সেই হাত দিয়ে যদি আপনি খাদ্যবস্তু ধরেন, তাহলে সেই খাবার আপনাকে সংক্রমিত করতে পারে।

টাকা বা দরোজার হাতল থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা কতখানি?

কেউ যদি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বা তার কাশি হয়, সেই কাশির থুতুকণা যদি তার হাতে লেগে থাকে আর সেই হাত দিয়ে সে যদি কোন কিছু স্পর্শ করে তাহলে সেই জিনিসটা সংক্রমিত হতে পারে। দরোজার হাতল বিশেষভাবে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষকরা এখনও স্পষ্টভাবে জানেন না যে করোনাভাইরাস কোন জিনিসের ওপর কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে।

কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলছেন এই ভাইরাস বাইরে কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকে। কয়েকদিন বেঁচে থাকার ধারণা সঠিক নয়। কিন্তু এ নিয়ে মতভেদ আছে।

সবচেয়ে ভাল পরামর্শ হল এ ধরনের কোন কিছু স্পর্শ করার পরই ভাল করে হাত ধুয়ে ফেলা। নিয়মিত ঘন ঘন হাত ধোয়া এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরামর্শ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা









Leave a reply