তৃতীয় লিঙ্গের জন্য মাদরাসা চালু পাকিস্তানে

|

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সহায়তায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে পাকিস্তানে। ইসলামাবাদে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য খোলা হয়েছে মাদরাসা। সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি সেলাইয়ের মতো কর্মমুখী বিভিন্ন প্রশিক্ষণও পাচ্ছেন এসব মানুষ।

পাকিস্তানের আর সব ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যতিক্রম ইসলামাবাদের এই মাদরাসা। এখানকার শিক্ষক আর শিক্ষার্থী সবাই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ।

মাদরাসা প্রধান রানি খান জানান, আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করতাম নইলে ভিক্ষা করতাম। এটা করেছি প্রায় ১৫ বছর। একদিন স্বপ্নে দেখলাম আমারই এক সাথি যে কি না কবরে খুব কষ্টে আছে। বেশ কয়েক বছর আগে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনাই আমার জীবনটাকে পাল্টে দেয়।

বর্তমানে এই মাদরাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫। এর উদ্যোক্তা রানি খান জানান, ধর্ম শিক্ষার পাশাপাশি, কর্মমুখী বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান থেকে।

রানি খান আরও জানান, নাচ করে যত অর্থ জমিয়েছি সেগুলো খরচ করে এই মাদরাসা পরিচালনা করছি। কেউ আমাকে একটা রুপি দিয়েও সাহায্য করেনি। আমরাও চাই ১০টা মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে। বৈধভাবে আয় করতে। তাই এই উদ্যোগ নিয়েছি। ধর্ম শিক্ষার পাশাপাশি সেলাইয়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এখানে।

তৃতীয় লিঙ্গের এসব মানুষের সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানায় পাকিস্তান সরকার।

পাকিস্তানের ডেপুটি কমিশনার হামজা শাফকাত বলেন, আমাদের লক্ষ্য তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। যেমন ট্রাফিক বিভাগে চাকরির সুযোগ আছে তাদের।

ইউএইচ/









Leave a reply