চলছে ৯ দিনের লকডাউন, যেন অদৃশ্য খাঁচায় বন্দি সাংহাইবাসী

|

ছবি: সংগৃহীত

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চীনের সবচেয়ে জনবহুল নগরী- সাংহাইয়ে দুই ধাপে চলছে ৯ দিনের লকডাউন। বর্তমানে লকডাউন নগরীর পূর্বাঞ্চল। বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর চীনা সরকার। তাই, বাধ্য হয়ে ঘরে থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। স্থবির হয়ে পড়েছে এলাকাটির জনজীবন, ফাঁকা রাস্তা-অফিস-আদালত। যেন অদৃশ্য খাঁচায় বন্দি সাংহাইবাসী।

ফাঁকা রাস্তায় দেখা মিলবে হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের। এ যেন এক অচেনা রূপে চীনের সবচেয়ে জনবহুল শহর সাংহাই। আড়াই কোটি বাসিন্দার এ শহরটিতে চলছে লকডাউন। জরুরি কাজ ছাড়া সাধারণ মানুষকে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, করা হচ্ছে গণ নমুনা পরীক্ষাও।

জনমানবহীন সাংহাই। ছবি: সংগৃহীত

লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে সাংহাইয়ের প্রশাসন। তাই বাধ্য হয়েই ঘরে থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কেউ কেউ বলছেন, খাঁচায় বন্দি জীবন কাটছে তাদের। চীনে অধ্যয়নরত পোলিশ শিক্ষার্থী মারেক নারোজনিয়াক বলেন, আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি, আমার ঘরের চারপাশ বেড়া দিয়ে ঘেরা। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তারা এমনটা করেছে। এটা দেখে আমি খুবই রাগান্বিত হয়েছি। আমি এখান থেকে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তাই বেশিরভাগ জিনিসপত্রই আমি দেশে পাঠিয়ে দিয়েছি। বেড়াগুলো দেখে মনে হচ্ছে আমি কোনো খাঁচায় আছি।

এদিকে নমুনা পরীক্ষার অব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। ভাষাগত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শহরটির বিদেশি বাসিন্দাদের। পোলিশ শিক্ষার্থী মারেক নারোজনিয়াক বলেন, তারা যখন পিসিআর টেস্ট করাতে আসে তখন দরজায় টোকা দিয়েই তাদের ভাষায় কিছু একটা বলে যা আমার মতো বিদেশি শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই বোঝে না। একবার তো রাত একটায় তারা পিসিআর টেস্ট করাতে আসে। এত রাতে তাদের দেখে আমি খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তাদের এসব আমার কাছে অতিরঞ্জিত মনে হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত

তবে এসব ব্যাপারে ভিন্নমতও রয়েছে। করোনা মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। স্থানীয় একজন বলেন, আমাদের শান্ত থাকা উচিত। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিতে হবে আমাদের। এই কয়দিনের কষ্ট যদি মহামারি দূর করে তাহলে এটাকে সমর্থন করা উচিত। আর তাতেই, সাংহাইবাসী দ্রুত তাদের আগের জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

চীনের আরেক অধিবাসী বলেন, আশা করছি দ্রতই সাংহাইয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। স্থানীয় সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। আমার ধারণা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সেরা সিদ্ধান্তটিই নিচ্ছে।

করোনা প্রতিরোধে শুরু থেকেই জিরো কোভিড নীতি অনুসরণ করে আসছে চীন। এই নীতির আওতায় গত দুই বছরে চীনের বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছে। তবে, এবারই প্রথমবার লকডাউনের আওতায় এসেছে সাংহাই।

আরও পড়ুন: চার দেশ থেকে ৪৩ রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার

এম ই/


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply