সাদুল্যাপুরে দখলে থাকা ২৩ শতক খাস জমি উদ্ধার

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় সংলগ্ন জেলা পরিষদের দখলে থাকা আবু হোসেন সরকার সুপার মার্কেটের ৪৯টি দোকানসহ ২৩ শতক সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত জমির সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন দখলে থাকার পর সাদুল্যাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বিকেলে ভূমি অফিসের লোকজন নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

সঞ্জয় কুমার মহন্ত জমি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাদুল্যাপুর ডিগ্রী কলেজ রোডের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় সংলগ্ন জেলা পরিষদের জায়গার উত্তরে ২৩ শতক জমি সরকারি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত। উক্ত জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও জেলা পরিষদের দখলে ছিলো। ওই জমিতে জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ করে। নির্মাণ করা মার্কেটের দোকানঘর নির্ধারিত অর্থ জামানত নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভাড়া দেয়। এরপর সম্প্রতি জমির সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করে উদ্ধার প্রক্রিয়া চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, সরকারি খাস জায়গা হওয়ার কারণে জমি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২৩ শতক জমি উদ্ধার করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সাথে জমির উপর ৪৯টি দোকানঘরসহ পুরো জমি লাল পতাকা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা জমিতে জেলা পরিষদের মার্কেটের দোকান ঘর ও অন্য কার্যক্রম সরকারি নিয়ম অনুসারে পর্যায়ক্রমে চলমান থাকবে।

সরেজমিন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯১ শতক জায়গায় ব্রিটিশ আমলে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে চ্যারিটেবল হেলর্থ সেন্টার এবং ডাক্তার ও কর্মচারীদের বাসস্থান ছিল। দেশ স্বাধীনের পর ওই স্থানে উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টরের অফিস ও তার বাসস্থান এবং অপর আর একটি ছিল উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এরশাদ শাসন আমলে স্যানেটারী ইন্সপেক্টরের অফিসটি দখলে নিয়ে উপজেলা জাতীয় পার্টি তাদের দলীয় কার্যালয় বানান। এরপর ৯০ সালে উপজেলা জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়টি সর্বদলীয় ছাত্রসমাজ দখলে নিয়ে নেন। এর কিছুদিন পর ওই ভবনটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয় হিসাবে গড়ে উঠে। পরবর্তীতে বিগত ২০১৩ সালে ওই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়টি বাদে বাকি জায়গায় গাইবান্ধা জেলা পরিষদ ১০২টি দোকন ঘর নির্মাণ করে করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরকে বরাদ্দ দেন। যার নাম দেন সাবেক মূখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার সুপার মার্কেট।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রধান দেলোয়ার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি সম্প্রতি গাইবান্ধায় যোগদান করেছেন। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর না নিয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।









Leave a reply