অস্ত্রপাগল যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ বিতর্ক

|

লাস ভেগাসে বন্দুকধারীর গুলিতে ৫৯ জনের মৃত্যুর পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে। নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ঠেকাতে অস্ত্র আইন কঠোর করতে তাগিদ দিতে শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটরা। অবশ্য বরাবরের মতো বিষয়টি নিয়ে নিশ্চুপ রিপাবলিকানরা। আর হোয়াইট হাউস বলছে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে আলোচনার সময় এখন না।

সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত এক জরিপ বলেছে, পৃথিবীর ৭৪ ভাগ অস্ত্র বহন করে বেসামরিক নাগরিকরা (সিভিলিয়ান) ! বাকি ২৬ ভাগ অস্ত্র বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্র বহনের তালিকা সবার প্রথমে আছে যুক্তরাষ্ট্র। লাস ভেগাসের হামলাকারীর হোটেলরুম ও বাসায় সন্ধান পাওয়া গেছে ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্রের!

প্রাপ্তবয়স্ক সব মার্কিনীরই সাংবিধানিক অধিকার আছে, আগ্নেয়াস্ত্র বহনের। যার ব্যবহারও হচ্ছে হরহামেশা। আর আগ্নেয়াস্ত্র সবচে বেশি ব্যবহার করে থাকেন নেভাদার বাসিন্দারা। পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে ১৫শ’র বেশি নির্বিচার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। গড়ে প্রতিদিনই বন্দুকধারীর গুলির শিকার হচ্ছে নিরীহ কোনো মার্কিনি। প্রতি হামলায় গড়ে নিহত হয় ৪ জন। গত সপ্তাহেই এমন ৬টি নির্বিচার গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা মার্কিনিদের বড় উদ্বেগের বিষয়। প্রশ্ন উঠেছে অস্ত্রের সহজলভ্যতার বিষয়টি নিয়েও। আইন কঠোর করার প্রশ্নে সরব ডেমোক্র্যাটরা।

কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, শোক জানানোই শেষ নয়। এ ধরনের হামলা বন্ধে এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার। অস্ত্র ক্রেতাদের ওপর সামান্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিয়ে ব্র্যাডি বিল পাসের পরও ১০ বছর চলে গেছে। অস্ত্র আইন এখনই কঠোর করা না হলে আরো হুমকিতে পড়তে হবে মার্কিনীদের।

আমেরিকান ফর রেসপন্সেবল সল্যুউশনস নামক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ক্যালি বলেন, কেউই ন্যাশনাল আর্মস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকাণ্ডকে খাটো করছে না। অস্ত্র বেচা বিক্রি করে মুনাফার ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হয়নি। কেউ কি বর্তমানের অস্ত্র আইনকে কঠোর মনে করেন? আইন কঠোর করেই নির্বিচার গুলিরোধ করা সম্ভব।

অবশ্য শুরু থেকেই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাই লাসভেগাসের এ ঘটনার পরও অস্ত্র আইন কঠোর করার ব্যাপারে উদাসীন ট্রাম্প প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ হুকাবে বলেন, অস্ত্র আইন নিয়ে বিতর্কের সময় এখন না। আর আইন দিয়েও এমন হামলা বন্ধ সম্ভব না। যেমন শিকাগোতে দেশের সবচে কঠোর অস্ত্র আইন বিদ্যমান থাকলেও, গেল বছর সেখানে অস্ত্র সহিংসতার শিকার ৪ হাজার জন। কোনো কিছুর সমালোচনা করা অনেক সহজ। কিন্তু এখন দোষারোপের সময় নয়।

অস্ত্রপাগল যুক্তরাষ্ট্রে, অন্য দশটি পণ্যের মতোই, বিক্রি হয় আগ্নেয়াস্ত্র। বর্তমানে, বিশ্বে বেসামরিক মালিকানাধীন যতো অস্ত্র আছে, তার অর্ধেকেরই মালিক মার্কিনীরা। ৩২ কোটি মানুষের দেশে, অস্ত্র আছে প্রায় ৩১ কোটি। প্রতি তিনজনের একজন বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকারী।

যমুনা অনলাইন: টিএফ

 

 









Leave a reply