ঢাকায় আইএমএফ দল, ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ব্যাংক

|

আলমগীর হোসেন:

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ ব্যাংক। বেশকিছু ক্ষেত্রে সংস্কার আনা হলেও কিছু শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সেগুলোর অবস্থান যৌক্তিক পর্যায়ে রয়েছে। এসব বিষয় আইএমএফের কাছে তুলে ধরা হবে।

ঢাকা সফররত আইএমএফ মিশনের সাথে পর্যালোচনা বৈঠক শেষে বুধবার (৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক।

প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে সাত কিস্তিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ। যার মধ্যে প্রথম কিস্তি ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার ছাড় হয় ফেব্রুয়ারিতে। আগামী নভেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তি ছাড় করার কথা।

ঋণ অনুমোদনে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম সমন্বয়, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা, ব্যাংক খাত ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারসহ বেশকিছু শর্ত দেয়া হয়। তা পূরণে লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

এসব শর্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা পর্যালোচনার জন্যই বাংলাদেশ সফর করছে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল। অগ্রগতি জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বৈঠক করেছে সংস্থাটির কর্তকর্তারা।

এ নিয়ে মেজবাউল হক বলেন, পর্যালোচনা করতে এসেছে আইএমএফের দল। তাদের কিছু প্রস্তাব ছিল, এগুলো আমরা কী কী করেছি, আমরা কী উদ্যোগ নিয়েছি, এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরও আলোচনা হবে সামনে।

শর্ত অনুযায়ী, জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ থাকার কথা ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আছে ২১ দশিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। খেলাপি ঋণও না কমে উল্টো বেড়েছে। এসব শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে পারেনি বাংলাদেশ। বেশকিছু শর্তও বাস্তবায়ন হয়নি। এরপরও দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মেজবাউল হক বলেন, যে অর্জনগুলো হয়েছে, সেগুলোতো আমরা তাদের তুলে ধরবো, আর যা হয়নি তা নিয়ে ব্যাখ্যা করবো। আলাপ-আলোচনার মধ্যে আমরা তো অবশ্যই চাইবো, দ্বিতীয় কিস্তি যেন ছাড় হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়, রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বৈঠক করবেন আইএমএফের প্রতিনিধিরা। এসব বৈঠকে শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে।

/এমএন


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply