বরগুনার ৩ চেয়ারম্যানসহ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা

|

বরগুনার তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যানসহ দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আদালতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। আদালতের বিচারক মো. মশিউর রহমান খাঁন মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (৮ মে) ভুক্তভোগী নারীর বাবা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু মিয়া, তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার, পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন মিঠু।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর মোবাইল ফোনে প্রেম হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বাচ্চু বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু চেয়ারম্যান তাকে বিয়ে না করে টালবাহানা করতে থাকলে চেয়ারম্যান তাকে বিয়ে করবে বলে স্ট্যাম্পে লিখিত দেয় এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ধর্ষণ করে এবং অজান্তে মোবাইলে নগ্ন ছবি ধারণ করে রাখে।

পরে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মামলার দ্বিতীয় আসামি পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার ওই নারীকে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। চেয়ারম্যান রাজ্জাক তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং তিনিও একইভাবে মোবাইলে নগ্ন ছবি ধারণ করে রাখেন। পরে তিনি ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করেন এবং তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রেজবি-উল কবির জোমাদ্দারের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধ্য করেন। কথা না শুনলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেন। এতে নিরুপায় হয়ে ওই নারী রেজবি-উল কবিররের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে বাধ্য হন। এরপর তিনিও ভুক্তভোগী নারীকে বিভিন্ন হোটেল ও লঞ্চে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ধর্ষণের শিকার ওই নারী ধর্ষণ মামলা করবে বলে জানালে তিন চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিলে ওই ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে উল্টো পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দেয়। মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে ওই মামলায় ওই নারী জেল হাজতে আছেন।

এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাবা বুধবার বরগুনা নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।

এটিএম/


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply