দাওয়াত খাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

|

তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর
ফরিদপুরের জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় দাওয়াত খাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হয়েছে একজন। এসময় আহত হয়েছে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ২০ জন। সংঘর্ষে দুই পক্ষের বাড়ি ঘর ভাঙচুরও করা হয়। বুধবার দিবাগত মধ্য রাতে বোয়ালমারীর চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, চতুল ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক জামাল মাতুব্বর এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য নাজিমউদ্দিনের মাঝে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে এই বিবাদ আরো বেড়ে যায়। এদের মধ্যে নাজিম উদ্দিন ও তার সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করে আর জামাল মাতুব্বর আওয়ামীলী গের বিদ্রোহী প্রার্থী আনরস প্রতীকের লিটন মৃধার পক্ষে কাজ করে। এই এলাকার ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক কম ভোট পাওয়ায় উত্তেজনা চলছিল তখন থেকেই।

এলাকাবাসী জানায়, গতকাল এলাকায় দাওয়াত অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে এক পক্ষকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। সেই দাওয়াত খাওয়া নিয়ে রাতে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে গভীর রাতে নাজিমউদ্দিন গ্রুপ একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে জামাল মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। জামাল মাতুব্বরের লোকজনও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায় দুই পক্ষের।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনর্চাজ শামিম আহমেদ জানান, স্থানীয় চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামে জামাল মাতুব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে নাজিমউদ্দিনের সমর্থকদের একটি দাওয়াত খাওয়া নিয়ে কথা কাটা কাটি হয়। পরে এরই জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, এসময় জামাল মাতুব্বরের সমর্থক দেয়োয়ার হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত অবস্থায় ভোরে মারা যায়।সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বোয়ালমারী হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহতর পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ থানায় দেয়নি, তবে আমার বিষয়টি আইনগ্রত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি ।









Leave a reply