রোহিত-রাহুলের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভারতের দাপুটে জয়

|

রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলের জোড়া সেঞ্চুরিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে ভারত। লংকানদের করা ২৬৪ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ৩৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।

এই জয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হটিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দলটি। নয় ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ভারত। এক ম্যাচ কম খেলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া।

অসিরা এখন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যানচেস্টারে ৩২৬ রানের টার্গেট তাড়া করছে। প্রোটিয়াদের হারাতে পারলে ভারতকে হটিয়ে আবারও শীর্ষে উঠে যাবে অস্ট্রেলিয়া।

শনিবার ইংল্যান্ডের হ্যাটিংলি লিডসে ভারতের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের সেঞ্চুরির পর ৭ উইকেটে ২৬৪ রানে ইনিংস গুটায় শ্রীলংকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেন ম্যাথিউস। এছাড়া ৫৩ রান করেন লাহিরু থিরিমান্নে।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনীতে ১৮৯ রানের জুটি গড়েন রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল। ৯৪ বলে ১৪টি চার দুটি ছক্কায় ১০৩ রান করে ফেরেন রোহিত শর্মা।

লংকানদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন রোহিত। তার আগে গত বিশ্বকাপে শ্রীলংকান কিংবদন্তি ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা চরটি সেঞ্চুরি করেছিলেন।

সেঞ্চুরি করে রোহিত শর্মা আউট হওয়ার পর ১১৮ বলে ১১টি চার ও এক ছক্কায় বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি করেন লোকেশ রাহুল। রোহিত-রাহুলের জোড়া সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ওভারের ৩৯ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় পায় ভারত।

শ্রীলংকা ২৬৪/৭

ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। তার ১১৩ রানের ইনিংসের পরও ৭ উইকেটে ২৬৪ রানে ইনিংস গুটায় শ্রীলংকা।

অসময়ে জ্বলে উঠল অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের ব্যাট। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিশ্চিতের পর ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করেছেন লংকান এ অলরাউন্ডার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২১১তম ম্যাচে তৃতীয় সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।

তবে চলতি বিশ্বকাপের ১৮তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২৭তম সেঞ্চুরি করেছেন ম্যাথিউস। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা। দুটি করে সেঞ্চুরি করেছেন সাকিব আল হাসান, উইলিয়ামসন, ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ, জো রুট ও জনি বেয়ারস্টো।

শনিবার ইংল্যান্ডের হ্যাডিংলি লিডসে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয় পড়ে যায় শ্রীলংকা। যশপ্রিত বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়ার গতির মুখে পড়ে ১১.৪ ওভারে ৫৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

বুমরাহর গতির বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন শ্রীলংকান দুই ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে সেই ধোনির হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন কুশল মেন্ডিস। আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা আভিস্কা ফার্নান্দোকে আউট করে সাজঘরে ফেরান রবিন্দ্র জাদেজা।

৫৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া দলকে খেলায় ফেরান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও লাহিরু থিরিমান্নে। পঞ্চম উইকেটে তাড়া ১২৪ রানের জুটি গড়েন। ৬৮ বলে চারটি বাউন্ডারিতে ৫৩ রান করে ফেরেন তিনি।

থিরিমান্নের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ফের ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় লংকানরা। তবে অনবদ্য ব্যাটিং করে যান ম্যাথিউস। ইনিংস শেষ হওয়ার ১০ বল আগে যশপ্রিত বুমরাহর বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। তার আগে ১২৮ বলে ১০টি চার ও দুটি ছক্কায় ১১৩ রান করেন ম্যাথিউস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা: ৫০ ওভারে ২৬৪/৭ (ম্যাথিউস ১১৩, থিরিমান্নে ৫৩, সিলভা ২৯*, ফার্নান্দো ২০, কুশল পেরেরা ১৮; বুমরাহ ৩/৩৭)।

ভারত: ৪৩.৩ ওভারে ২৬৫/৩ (রোহিত ১০৩, রাহুল ১১১, কোহলি ৩৪*, রিশব প্যান্ট ৪, হার্দিক পান্ডিয়া ৭*)।

ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী।









Leave a reply