রাশিয়ার হস্তক্ষেপ: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি দেবেন ফ্লিন

|

শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণ হলো ট্রাম্প প্রশাসনের বরখাস্ত হওয়া নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে আনা এফবিআই’র অভিযোগ। শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসি ফেডারেল আদালতে নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ইস্যুতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন ফ্লিন।

এর মাধ্যমে নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ইস্যুতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মার্কিন রাজনীতি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে যোগাযোগের নির্দেশ দেন বলে স্বীকারোক্তি দেবেন বরখাস্ত হওয়া নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। এমন দাবি মার্কিন গণমাধ্যম এবিসির।

এর আগে রুশ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এফবিআই’র কাছে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নেন ফ্লিন। একে তদন্তের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসাবে দেখছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

আদালতে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ফ্লিন বলেন, জ্ঞাতসারে এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। দেশের স্বার্থে এবার ভুল স্বীকার করছেন তিনি। মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, রুশ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগে তাকে কারা নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে ব্যাপারেও ফ্লিন আদালতকে স্বীকারোক্তি দিতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকরা বলছেন, তার স্বীকারোক্তি বের করে আনবে থলের বেড়াল।

মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারিয়াম বায়ের বলেন, স্বীকারোক্তিতে রাজি হওয়ায় এখন আশা করা যায় রুশ হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে যা জানেন সবই বলবেন ফ্লিন। হস্তক্ষেপের সাথে জড়িতদের ব্যাপারে শুধু মুখ খোলাই নয়, পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত সরবরাহেও আদালতকে সহায়তা করতে হবে তাকে। এখন প্রশ্ন হলো, ফ্লিন আগে কেন মিথ্যা বলেছিলেন? খুঁজে বের করতে হবে কাদের বাঁচাতে ফ্লিনের এ চেষ্টা?

ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের অন্যতম ছিলেন ফ্লিন। কিন্তু এ ইস্যুতে এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন তিনি। এটি স্বীকার করে নেয়ায় রুশ আতাঁতের বিষয়টি এখন স্পষ্ট। তদন্তের প্রয়োজনেই সব সাক্ষীদের নতুন জবানবন্দি নেয়া উচিৎ। তালিকায় জুনিয়র ট্রাম্প, কুশনার এমন কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও থাকতে পারেন।

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে কূটনৈতিক বিধি লঙ্ঘন করে রুশ কূটনীতিক সের্গেই কিসলিয়াকের সাথে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেন ফ্লিন। এ তথ্য ফাঁস হলে বিতর্কের জেরে এক মাসের মাথায় পদত্যাগে বাধ্য হন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এরপর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তে নামে এফবিআই ও সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটি।









Leave a reply