জেল থেকে ছাড়া পেয়েই অধ্যক্ষের ওপর হামলা

|

বরিশালে জেল থেকে ছাড়া পেয়েই কলেজ অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করেছে একটি কিশোর সন্ত্রাসী গ্রুপ। এ ঘটনায় গ্যাং গ্রুপের মিজানুর রহমান রুবেল নামের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডস্থ সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

এতে আহত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত কুমার দেবনাথকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সিটি কলেজের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আউয়াল হোসেন বাদী হয়ে বুধবার রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। হামলাকারী বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি নুরুল ইসলাম।

আটককৃত মিজানুর রহমান রুবেল ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলো- সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং এর প্রধান সৌরভ বালা ও ইয়ামিন হোসেন জুয়ে সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন। এদের মধ্যে কিশোর গ্যাং প্রধান সৌরভ বালা ও ইয়ামিনসহ তিনজনকে সিটি কলেজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার সকালেই তারা জেল থেকে বের হয়ে হামলার ঘটনা ঘটায়।

সিটি কলেজের ক্যাশিয়ার এসএম সাইদুর রহমান জানান, ২০১৫ সালে সিটি কলেজের অফিস কক্ষের আলমিরা ভেঙে টাকা লুট করা হয়। যে ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সৌরভ বালা ও রুবেলসহ বেশ কয়েকজন আসামি ছিল।

গত ২৯ জুলাই ওই মামলায় সাক্ষী দিয়ে আসার পর পরই সৌরভ বালা, রুবেলসহ একদল যুবক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হট্টোগোলের সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সৌরভ বালা ও ইয়ামিন হোসেন জুয়েল সহ তিন যুবককে আটক করে নেয়।

এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মামলা না দেয়ায় পুলিশ তাদেরকে মেট্রো অধ্যাদেশে আদালতে চালান দেয়। এর পর বুধবার আদালত থেকে ছাড়া পেয়েই পুনরায় দলবলসহ লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সৌরভ, রুবেল, ইয়ামিনসহ তাদের সহযোগীরা। পরে তাদের হামলায় কলেজ অধ্যক্ষ আহত হলে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল হতে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া কলেজের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। যা এজাহার হিসেবে রুজু করা হবে।

প্রসঙ্গত এই সন্ত্রাসী গ্রুপটির বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে তারা বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের এক সহসভাপতির নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। গ্রুপটির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা এবং ছিনতাই থেকে শুরু করে নানা অভিযোগ রয়েছে।









Leave a reply