অনলাইন বেটিংয়ে অবাধে চলছে কোটি টাকার লেনদেন

|

দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ক্যাসিনো। ক্লাব ক্যাসিনো, অনলাইন ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। ২০১৬ সালে তিন দফায় ১ হাজার ৬৮৮টি সাইট বন্ধ করা হলেও এখনো অনলাইন বেটিংয়ে অবাধে চলছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন।

এরইমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সারাদেশের প্রায় দেড় শতাধিক ক্যাসিনো। ভার্চুয়াল বা অনলাইন ক্যাসিনোর বাংলাদেশের মূল হোতা সেলিম প্রধানকে সোমবার আটক করা হয়েছে। এতে অভিযান পেয়েছে নতুন মাত্রা। তার বাসা থেকে, নগদ দেশি-বিদেশি মুদ্রা, পানীয়সহ অনলাইন ব্যাটিং টি-টোয়েন্টি ফোর ও টি-টোয়েন্টি ওয়ান নামে দুটি অ্যাকাউন্টের সফটওয়্যার জব্দ করে।

ক্যাসিনোতে স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে খেলার ঝক্কি এড়াতে অনেকেরই পছন্দ অনলাইন বেটিং। যদিও নানা সমালোচনার পর ২০১৬ থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দফায় এ ধরনের ১৬৮৮ সাইট বন্ধ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করা হলেও এখনও বহাল তবিয়তে চলছে এমন অনলাইন জুয়ার আসর। সামাজিক মাধ্যেমে যা বেটিং নামে পরিচিত। গত কয়েকদিনে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ক্রীড়াঙ্গন জড়িয়ে পড়লে আবারও টনক নড়ে প্রশাসনের। নানা অনুসন্ধানের পর দ্রুততম সময়ে আটক করা হয় বাংলাদেশে অনলাইন বেটিংয়ের কান্ট্রি হেড পদে থাকা সেলিম প্রধান নামের এক ব্যাক্তিকে। বন্ধ করে দেয়া হয় তার নিয়ন্ত্রণে থাকা অনলাইনে বেটিংয়ের ওয়েব সাইট দুটি।

তবে এতো কিছুর পরও থেমে থাকেনি অনলাইন জুয়ারিদের কার্যকলাপ। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে বাকিরা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যকলাপ। শুধু তাই নয়। ভিপিএন ছাড়াই এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে বেশ কয়েকটি অনলাইন বেটিং সাইট। এগুলোতে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গা থেকেই খেলা যায় অনায়াসে। আর এসব ডিজিটাল বেটিংয়ের লেনদেন হয় ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড বা বিটকয়েনের মতো ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে। এমন কি অর্থ লেনদেনে অনেকেই দেশীয় মোবাইল ব্যাংকিং প্রক্রিয়াও ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশে ‘জুয়া খেলার শাস্তি’ আইনটি রচিত হয়েছিল ১৮৬৭ সাল। যেখানে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এই শাস্তি আরও কঠোর হওয়া উচিত। পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন ছাড়া জুয়ার ভয়াল ব্যাপ্তি থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন বলেই মানছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।









Leave a reply