পাহাড়কে ‘ব্যক্তি’র মর্যাদা দিলো নিউজিল্যান্ড

|

চলতে পারে না, কথা বলতে পারে না, অনুভূতি নেই- এসব কারণে একটি পাহাড়কে আপনি ‘বস্তু’ মনে করতে পারেন। কিন্তু সেই একই পাহাড়কে ‘বস্তু’ নয়, ‘ব্যক্তি’ মনে করেন নিউজল্যান্ডবাসী। সম্প্রতি দেশটির বিখ্যাত মাউন্ট টারানাকিকে ‘আইনের দৃষ্টিতে ব্যক্তি’র মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় আইনে একজন ব্যক্তি যেসব সুবিধা ভোগ করেন, মাউন্ট টারানাকিও তা ‘ভোগ’ করতে পারবে!

অবশ্য কোনো ভৌগলিক অঞ্চলকে আইনের দৃষ্টিতে ‘ব্যক্তি’র স্বীকৃতি দেয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এই নিয়ে তিনবার এমন নজির স্থাপন করলো নিউজিল্যান্ড। এই আইনি স্বীকৃতির মাধ্যমে মূলত একটি এলাকার পরিচর্যা ও সংরক্ষণের বিশেষ দায়িত্ব সরকার নিজে কাঁধে নেয়। এখন থেকে কেউ কোনোভাবে পাহাড়টির ক্ষতি করতে চাইলে তা সংশ্লিষ্ট ‘উপজাতির ক্ষতির চেষ্টা’ বলে গণ্য হবে।

নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ড দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত পাহাড় মাউন্ট টারানাকি। পর্বতটি স্থানীয় মাউরি উপজাতির কাছে খুবই পবিত্র একটি জায়গা। আসলে ‘জায়গা’ নয়; তারা মনে করেন, এই পাহাড়ই তাদের এক পূর্বপুরুষ এবং গোত্রের সদস্য।

একজন সাধারণ মানুষের মত এই ভৌগলিক নিদর্শনটিও এখন থেকে ভোগ করবে সকল আইনী অধিকার । মন্দিরের সেবায়েত যেমন আশ্রম বা মন্দিরের প্রতিনিধি হন এবং যেখানে মন্দির ‘একজন আইনগত ব্যক্তি’ ব্যাপারটি অনেকটা সেরকম । আইনগত ব্যক্তি বলতে সাধারণত বোঝানো হয়, যার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় এবং যে মামলা করতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি পাহাড় কিভাবে মামলা করবে?

উত্তর হলো, যৌথভাবে পাহাড়টির আইনগত অভিভাবক হবেন স্থানীয় মাউরিরা এবং নিউজিল্যান্ড সরকার। তারাই পাহাড়ের পক্ষে মামলা ঠুকবেন বা আদালতে কৈফিয়ত দেবেন।

এর আগে হোওয়াংগানুই নদীকে একইভাবে ‘আইনের দৃষ্টিতে ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল।

মাউরি উপজাতির সাথে সরকারের করা চুক্তিপত্রে নিউজিল্যান্ডের চুক্তি সমঝোতা বিষয়ক মন্ত্রী এন্ড্রু লিটল বলেছেন, টারানাকি পাহাড়টি ‘নিজের অধিকারের ক্ষেত্রে একজন আইনগত ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে। মন্ত্রী নিজেও সেই পাহাড় এর পাদদেশে বেড়ে উঠেছেন। পর্বতটির এরকম আইনী সুরক্ষা ও পরিচয় পাওয়ায় তিনি নিজেও ব্যক্তিগত ভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

অষ্টাদশ শতকে টারানাকি পাহাড় অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নির্মম নির্যাতন চলে মাউরিদের উপর। মন্ত্রী আরও মনে করেন যে, বর্তমানের এই সমঝোতাটা সেই সময়ে চালানো নির্যাতনকে স্বীকার করে নেয়ার একটি যুগান্তকরী ধাপ।

বর্তমান চুক্তির শর্তানুসারে, ১৮৪০ সালে মাউরিদের সাথে ব্রিটিশ শাসকদের করা চুক্তির ভঙ্গের কারণে নিউজিল্যান্ড সরকার স্থানীয়দের (মাউরি) কাছে ক্ষমা চাইবে। তবে স্থানীয়রা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন না।

প্রধান সমঝোতাকারী জ্যামই টুটা বলেছেন, ‘সমঝোতাটি মাউরি জাতিসত্ত্বার জন্য খুব গুরুত্বপুর্ণ। এই পর্বতটি মাউরিদের নিজেদের সামাজ এবং জাতিগত পরিচয়ের নির্দেশক।

হোয়াংগুনি নদীর আইনি অধিকার আদায়ের জন্য মাউরিরা ১৪০ বছরের সংগ্রামের পর এ বছরের শুরুতে সফল হয়েছিলো।
তারানাকি পর্বত এক লক্ষ বিশ বছরের পুরানো। একই সাথে এটি নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে গঠিত মৃত আগ্নেয়গিরি। এটি থেকে সর্বশেষ অগ্নুৎপাত হয় ১৭৭৫ সালে। পর্বতারোহনের জন্য তারানাকি দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় পাহাড়।

যমুনা অনলাইন/এনপি









Leave a reply