ধর্ষণের শিকার নারীদের কাপড় নিয়ে প্রদর্শনী

|

ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা আমাদের সমাজে অনেক বড় একটি ব্যাধি। এর সবচেয়ে বেশি শিকার হন ধর্ষণের শিকার নারীরা। কোনো নরপশুর লালসার শিকার হওয়ার পর চারপাশের অনেকেই আঙ্গুল তুলেন ভুক্তভোগীর দিকে। নারীটিকে শুনতে হয়- ‘এ জন্য তোমার পোশাকেরও দায় ছিলো হয়তো!’

এই ‘মিথ’কে ভেঙে দিতে বেলজিয়ামে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর। ধর্ষিত নারীদের পোশাক নিয়েই এই প্রদর্শনী। ঘটনার সময় ধর্ষিতার পরনে যে পোশাক ছিলো সেগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে দর্শকদের জন্য। এরকম অনেক নারীর পোশাকই সংগ্রহ করেছে বেসরকারি সংস্থা ‘সিএডব্লিউ ইস্ট ব্রাব্যান্ট’।

এর মাধ্যমে এটা দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগী নারীরা আসলে তাদের পরনের কাপড়ের জন্য নরপশুদের লালসার শিকার হন না।

আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তা লিসবেথ কেনেস বলেন, ‘এখানে ঘুরলে সহজেই আপনার চোখে পড়বে যে, ধর্ষণের সময় এসব নারীর পরণে খুব সাধারণ পোশাকই ছিলো। এমনকি ভুক্তভোগী একটি শিশুর পোশাকও আছে এখানে। এসব আমাদের সামনে কিছু কঠিন বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলে।’

কেনেস আরও বলেন, ধর্ষণের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে দায়ী করার সমস্যাটা এখনও আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে রয়েছে। এতে তাকে বোঝানো হয়, অপরাধের জন্য সে নিজেও কিছুটা হলেও দোষী!

বেলজিয়ামের প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, এদেশে ধর্ষিতদের মাত্র ১০ শতাংশ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এর মধ্যে প্রতি দশজন অভিযুক্তের মাত্র একজন বিচার শেষে দণ্ডিত হয়। ‘নিজের ভোগান্তি ও কষ্টের কথা মুখ ফুটে বলতে ভুক্তভোগীদেরকে আমাদের সমাজ নিরুৎসাহিত করে’, বলেন কেনেস।









Leave a reply