“রকিদের দাপটে রাজনৈতিক কর্মীদের লজ্জায় মুখ লুকাতে হয়”

|

"রকিদের দাপটে রাজনৈতিক কর্মীদের লজ্জায় মুখ লুকাতে হয়"

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার বিতর্কিত রকি বড়ুয়াকে নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড় চলছে। মঙ্গলবার (১২ মে) আগ্নেয়াস্ত্রসহ চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির কথা বলে তার ছেলের সঙ্গে রকি বড়ুয়ার বৈঠকের ছবি ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড়া ওঠে। রকিদের দাপটে রাজনৈতিক কর্মীদের লজ্জায় পড়তে হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি রাহুল বড়ুয়া। তিনি আরও লেখেন, রকি বড়ুয়া কোনো বৌদ্ধ সংগঠনের নেতা নয়। তার ভাইরাল হওয়া কোনো ছবিতে বৌদ্ধ বা বড়ুয়া নেতাদের ছবি নেই, সখ্যও নেই।
রকি বড়ুয়াকে নিয়ে রাহুল বড়ুয়ার সেই স্ট্যাটাস
রাহুল বড়ুয়ার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

“#বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে আসল সত্য জানুন

রকি বড়ুয়া বঙ্গভবন ও গণভবনে বাংলাদেশে কোন সংগঠনের প্রতিনিধি হয়ে প্রবেশ করেনি। ২০১৫ সালে ভারতীয় এমপিদের সাথেই সে বঙ্গভবন ও গণভবনে প্রবেশ করেছিল।

লোহাগাড়ার ভন্ড রকি বড়ুয়াকে নিয়ে ফেসবুক ও সারাদেশে এখন তোলপাড়। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাড়াও দেশের অনেক শীর্ষ নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে অতি ঘনিষ্ঠভাবে ছবি তুলে নিজের অবস্থান ও প্রভাবের জানান দিতে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে।

রকিদের এমন সব দাপটে আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী তাদের আজকাল লজ্জায় মুখ লুকানো ছাড়া উপায় নেই। কিভাবে দলে ও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব অরাজনৈতিক সুবিধাবাদীরা নিজেদের ফায়দা লুটে রাজনৈতিক কর্মীদের অপমান করে তা শুধু অনুধাবন করা যায়, কাউকে বুঝানো যাবে না।

রকি বড়ুয়ার বিষয়টিকে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের দলের অনেকে বৌদ্ধ সমাজ, নেতৃত্ব ও মুক্তিযুদ্ধে বৌদ্ধদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। যারা বৌদ্ধদের রাজাকার বানানোর চেষ্টা করছেন তারা আপনার এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জিজ্ঞেস করুন প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রাম ও বিহার মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি ছিল। প্রতিটি গ্রাম তখন থেকে এখনও নৌকার ঘাঁটি।

স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক প্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যমত সংগঠক সংঘরাজ জ্যোতি পাল মহাথের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পালিয়ে আগরতলা গিয়ে গণহত্যার বিরুদ্ধে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব বৌদ্ধদের সাংবাদিক সম্মেলন করে আহ্বান জানায় ও সারা বিশ্বের বৌদ্ধ রাষ্ট্রে প্রচারণা চালায়।

রকি বড়ুয়া কোন বৌদ্ধ সংগঠনের নেতা নয়। তার ভাইরাল হওয়া কোন ছবিতে বৌদ্ধ বা বড়ুয়া নেতাদের ছবি নাই, সখ্যতাও নাই।

রকি লেখাপড়া করতে ভারতে থাকাকালে পটিয়ায় জন্মজাত ভারতীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সংঘনায়ক ও বিজেপি নেতা ভদন্ত ধর্মবিরিয় মহাথেরো এমপির কাছে থাকতো। ২০১৫ সালে ৫/৬ জন ভারতীয় এমপিকে রকি বড়ুয়া নিজগ্রাম বিবিবিলার বাড়িতে নিয়ে আসে ও তাদের সংবর্ধনা দেয়। ভারতীয় সংঘনায়ক ও রাজ্যসভার সাবেক সদস্য ধর্মবিরিয় মহাথেরোর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার। অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার সদস্য থুপস্টান চিওয়াঙ (লাদাখ), রাজেশ ভার্মা (উত্তর প্রদেশ), সুনীল গাইকোয়াড় (মহারাষ্ট্র), মুকেশ রাজপুত (উত্তর প্রদেশ) ও অজয় নিশাদ (বিহার) আসে। এছাড়া কুষ্টিয়ার এমপি আবদুর রউফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী ছিলো।

রকি বড়ুয়া বঙ্গভবন ও গণভবনে বাংলাদেশে কোন সংগঠনের প্রতিনিধি হয়ে প্রবেশ করতে পারেনি। ভারতীয় এমপিদের দলটি নিয়ে ভদন্ত ধর্মবিরিয় মহাথেরো গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রকিও সাথে ছিল। চতুর ও ভন্ড রকি গুরুকে বাদ দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে নিজের ছবি প্রচার করে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের ঘৃণিত চেষ্টা না করে আসুন সঠিক ও তথ্য জানি। আজ যারা ফেসবুকে পোস্টিং দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন তাদের এটাও জানা দরকার শুরু হতেই রকির বিরুদ্ধে বড়ুয়া ও বৌদ্ধ ছেলেরাই প্রতিবাদ করেছে ও করে যাচ্ছে। তার গ্রেফতারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় সন্তুষ্ট ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়।”









Leave a reply