জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে চাপা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

|

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার একদিন আগেই চাপা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা মানুষের মাঝে। এরইমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রবেশমুখে চলছে নজরদারি-তল্লাশি। কোন ধরনের নাশকতা হলে কঠোর ব্যবস্থা- বলছেন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরাও বলছেন, নাশকতা ঠেকাতে কয়েক হাজার শ্রমিক লাঠি হাতে মাঠে থাকবে ৮ ফেব্রুয়ারি। সাজা হলে খালেদা জিয়াকে রাখা হতে পারে পুরনো কারগারে। সেখানেও জোর প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম-জামালপুর-কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক হয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের দুই শতাধিক নেতাকর্মী।

অন্যদিকে  ৮ ফেব্রুয়ারি অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, পুলিশের কাছে ঢাকাসহ কয়েকটি জায়গায় নাশকতা পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

এব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোন ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি যেনো না হয়, সে জন্য আইনশঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় কেন্দ্র করে সরকার প্রধানের ইচ্ছা পূরণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করছে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য্য রয়েছে বৃহস্পতিবার। প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী-বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রায় ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। শঙ্কায় সাধারণ মানুষ।

রায় যা-ই হোক, সাধারণের জানমাল রক্ষায় নিরাপত্তার ঘাটতি রাখতে চায় না আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। সারা দেশে জেলা ও মহানগর পুলিশ প্রধানদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিবহনে নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাহারা আর সিসিটিভি মনিটরিং’সহ বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এরইমধ্যে রাজধানীর প্রবেশ পথ আর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চলছে তল্লাশি। চেকপেষ্টগুলোতে বসানো হয়েছে আধুনিক সরঞ্জাম। আর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বকশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসা এলাকায়। ৮ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা বহন আর রাস্তা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে এমন সভা-মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অতীতে আন্দোলনের প্রধান শিকার হয়েছে পরিবহন খাত। গণ পরিবহনে আগুন-বোমায় মৃত্যুর মিছিলও কম নয়। তাই এবার রায় ঘিরে পরিবহনে যে কোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এক সভা শেষে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক নিয়মে চলবে গণপরিবহন; নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে লাঠি হাতে থাকবে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।

রায়ে খালেদা জিয়া দণ্ডিত হলে তাঁকে নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কারাগারে রাখা হতে পারে বলে কারাসূত্রে জানা গেছে। এজন্য সেখানকার ডে-কেয়ার সেন্টারটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সূত্র।

 









Leave a reply