‘বন্যপ্রাণী থেকেই জন্ম নিচ্ছে ৭০ শতাংশ ভয়ঙ্কর সব মারণ রোগ’

|

‘বন্যপ্রাণী থেকেই জন্ম নিচ্ছে ৭০ শতাংশ ভয়ঙ্কর সব মারণ রোগ’

কোভিড-১৯ মতো ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে খোলাবাজারে বন্যপ্রাণী বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি চলছে, বিশ্বে যতো ভাইরাস ছড়ায় তার ৭০ শতাংশই আসে বন্যপ্রাণী থেকে। তাই বাদুর-সাপ-ইঁদুরের মতো বন্যপ্রাণী খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

নাইজেরিয়ার লাগোসের এই বাজারে প্যাঙ্গোলিন বা বনরুই কেটে বেছে পরিষ্কার করা হচ্ছে বিক্রি করার জন্য। অপর আরেকটি দোকানে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বিশালাকৃতির ইঁদুর। বন্যপ্রাণী বিক্রির এমন দৃশ্য আফ্রিকার অনেক দেশেই নিয়মিত। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার পর থেকেই এর উৎস হিসেবে বন্যপ্রাণীকে দায়ী করে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করছে, এভাবে জীবন্ত বন্যপ্রাণী ধরা ও বিক্রির ফলে করোনার মতো আরও ভাইরাস ছড়াতে পারে ভবিষ্যতে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ফাদেলা চাইব বলেন, পৃথিবীতে যতো ভাইরাস এবং জীবাণু রয়েছে এর ৭০ শতাংশের উৎপত্তি বন্যপ্রাণী থেকে। তাই যেসব দেশে বন্যপ্রাণী খাওয়া বা কেনার প্রচলন আছে তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ আপাতত এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকুন।

এছাড়া অনেক দেশেই ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি হিসেবে বন্যপ্রাণী হত্যা এবং খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। বাজারে বন্যপ্রাণী বিক্রি বন্ধে কঠোর হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মুখপাত্র আরও বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার সতর্কতা জারি করেছে বন্যপ্রাণী খাওয়া এবং বাজারে বিক্রি করার বিষয়ে। খাদ্যের উৎস হিসেবে প্রচলিত নয় এমন প্রাণী খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কারণ এসব বন্য প্রাণী বাজারে এনে বিক্রি করলে সেখান থেকে যেকোনো জীবাণু ছড়ানোর শঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

উহানে প্রথম করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর এর কারণ হিসেবে দায়ী করা হয় বাদুরকে। ওই ঘটনার পর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাওসসহ বিভিন্ন দেশে বন্ধ করা হয় বাদুর ধরা। এছাড়াও ইউরোপের দেশগুলোতে মিঙ্ক থেকে ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়ার পর হত্যা করা হয় লাখ লাখ মিঙ্ক।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply