সাকিবের ‘কিকেই’ ঘুম ভাঙলো বিসিবির?

|

ঘরোয়া ক্রিকেটের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলকানা আম্পায়ারিংয়ের বিষয়টি যেন ওপেন সিক্রেট। সবাই জানে, বুঝে, হতাশাও প্রকাশ করে আড়ালে-আবডালে কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? সাপের লেজে পাড়া দিয়ে কে-ই বা ঘাড়ে বিপদ ডেকে আনতে চায়? ফলে ওপেন সিক্রেট এই বিষয় নিয়ে নানা সময় গণমাধ্যমে খবর হলেও কর্তাব্যক্তিদের টনক নড়ে না । তাদের যুক্তি- কই কেউ তো অভিযোগ দিচ্ছে না!

শুক্রবার আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মেজাজ হারানোর ঘটনার সূত্র ধরে আবারও ঘরোয়া ক্রিকেটের অনিয়ম ও বাজে আম্পায়ারিংয়ের বিষয়টি সামনে আসলো। ক্রীড়াঙ্গনে ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন, কেনো মেজাজ হারালেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার? নিঃসন্দেহে তার এই আচরণ অক্রিকেটীয় এবং শাস্তিযোগ্য। সেই শাস্তিও তিনি পেয়েছেন। ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, ৫ লাখ টাকা জরিমানা। তবে, এ কথা মানতেই হবে সাকিবের এই অগ্রহণযোগ্য আচরণ যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে নির্দেশ করলো সেই মনস্তত্ব- কিছু কিছু দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে হয় ১৩ জনের বিরুদ্ধে! সাকিবের এই ক্ষোভ আম্পায়ারদের দলকানা আচরণের দিকটি আরও একবার আলোচনায় আনলো যা প্রমাণ করা কঠিন, কিন্তু ওপেন সিক্রেট!

সাকিব কাণ্ডে এবার যেন টনক নড়েছে বোর্ডেরও। ঘরোয়া ক্রিকেটের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বয়ং বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। তিনি জানান, অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, প্রয়োজনে লিগ বন্ধ করে দেয়া হবে। মিডিয়া, ফেসবুকে যেসব অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো হলে লিগ চালিয়ে লাভ কী?

শনিবার বিকেলে যমুনা নিউজের সাথে একান্তে কথা বলেন বোর্ড সভাপতি। সাকিব আল হাসানের সাম্প্রতিক ঘটনা ধরে আলাপ গড়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটের অনিয়মে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে বোর্ড সভাপতি বলেন, ঘরোয়া ম্যাচে অনিয়ম নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে বিসিবি। তদন্ত করে এসব অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনে ব্যয়বহুল এই লিগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোভিডে মধ্যে কত কষ্ট করে এই লিগ চালানো হচ্ছে। এত অনিয়ম হয়ে থাকলে এই লিগের দরকার কী? এট লিস্ট ১ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ বায়ো বাবলের জন্য। আমি ক্লাবগুলোকে ডেকেছি। আন্তর্জাতিকভাবে এটা নিয়ে চাপে পড়েছি। আমাকে নানান জায়গা থেকে ফোন দেয়া হচ্ছে। কোনো ক্রিকেটার বা আম্পায়ার লিখিত অভিযোগ দেয় না। চারদিক থেকে যা শুনি তার তদন্ত করা হবে। এভাবে চলতে দেয়া যায় না।

এর আগে, সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ জানান, আচরণবিধি লেভেল ৩ অনুযায়ী এই শাস্তি দেয়া হয়েছে সাকিবকে।

শুক্রবার আবাহনীর বিরুদ্ধে ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্ট্যাম্পে লাথি ও স্ট্যাম্প তুলে ছুড়ে ফেলেন সাকিব। যদিও এরপরই পুরো ঘটনার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান তিনি। গতকাল প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বিপক্ষে এলবিডব্লিউ’র আবেদনে আম্পায়ারের সাড়া না পেয়ে স্টাম্পে লাথি মারেন সাকিব। পরের ওভারেই বৃষ্টি নামলে আম্পায়ার খেলা বন্ধ করলে সাকিব আবারও স্টাম্প উপড়ে ফেলেন। পরে অবশ্য ম্যাচটা জিতেছে সাকিবের মোহামেডানই। তবে মেজাজ হারিয়ে অশোভন আচরণের খেসারত দিতে হয়েছে সাকিবকে। এখন সেটিই যদি বিসিবির ঘুম ভাঙায় তাও মন্দ কী?


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply