বিদেশি জাহাজে কাজ পাচ্ছে না বাংলাদেশি নাবিকেরা

|

করোনা টিকা না পাওয়ায় বিদেশি জাহাজে কাজ মিলছে না বাংলাদেশি নাবিকদের।

নতুন সংকটে পড়েছেন দেশের প্রায় ১৬ হাজার নাবিক। যথাসময়ে টিকা এবং সনদ না পাওয়ায় বিদেশী জাহাজে যোগদান করতে পারছেন না অনেকে। চুক্তি বাতিল হয়েছে কারও কারও। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান নিশ্চিত না করলে বিদেশে চাকরির বাজার হারানোর শঙ্কায় আছেন পেশাদার নাবিকেরা।

বিশ্বের অনেক দেশ নাবিকদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা এবং দ্রুত সনদ দিলেও, বাংলাদেশে তা না হওয়ায় বিপাকে এই পেশার সাথে জড়িতরা। বাংলাদেশে নাবিকের সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাবিকদের প্রতিযোগিতা করতে হয় ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের নাবিকদের সাথে। সমান দক্ষতা থাকার পরও এই খাতে বাংলাদেশিদের শুধু যথাসময়ে টিকা না পাওয়ায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার বিএসএম শিপিং কোম্পানির একটি জাহাজে ৬ মাসের চুক্তিতে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ নেওয়ার কথা ছিলো আওলাদ চৌধুরীর। আদতে জাহাজটির পুরো জনবলই নেওয়ার কথা ছিলো বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু ভ্যাকসিন না নেওয়ায় বাদ পড়েছেন সব বাংলাদেশি।

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আওলাদ চৌধুরী বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশি মেরিনার ছিলাম তারা টিকা না নেওয়ায় যোগদান করতে পারিনি। আমাদের জায়গায় কোম্পানি অন্য দেশ থেকে জনবল নিয়েছে। টিকা না দেওয়া থাকায় আমরা আমাদের কাজের সুযোগ হারাচ্ছি।

মেরিন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে বেশিরভাগ বিদেশী জাহাজের চাকরীর আবেদনে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে টিকা নেওয়ার শর্ত। কিন্তু, এখন পর্যন্ত মেরিন সংশ্লিষ্টদের টিকা নেওয়া ব্যাপারে উদ্যোগ না আসায় দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এ খাতে বছরে বাংলাদেশের আয় অন্তত ৫০৪ মিলিয়ন ডলার। তারপরও নাবিকদের সংকট নিরসনে উদ্যোগ না আস্য বাজার হারানোর শঙ্কায় আছেন তারা।

মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে আমরা হতাশ। সরকার যদি মেরিন অফিসার ও ক্রুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে তবে আমরা আশাবাদী যে এই বাজার আমরা ধরে রাখতে পারবো।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply