তালেবান আতঙ্কে আত্মগোপনে ২৩০ নারী আইনজীবী

|

এই ছবিতে যাদেরকে দেখা যাচ্ছে তারা সকলেই আইনজীবী, এখন জীবন বাঁচাতে প্রতিদিন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

গত আগস্ট পর্যন্ত ফারিশতা (ছদ্মনাম) ছিলেন আফগানিস্তানের একজন প্রভাবশালী আইনজীবী। যিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে দেশটির অসংখ্য সন্ত্রাসী, সহিংস তালেবান সদস্য, দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা এবং নারী-শিশু নির্যাতনকারী। কিন্তু, তালেবানের কাবুল দখলের পর থেকেই জীবন বাঁচাতে তিনি আছেন আত্মগোপনে। জানা গেছে তিনি ছাড়াও জীবন বাঁচাতে আত্মগোপনে আছেন অন্তত ২৩০ আফগান নারী আইনজীবী। খবর বিবিসির।

ফারিশতা (২৭) এখন দিন কাটাচ্ছেন কোনোমতে তালেবানের থেকে লুকিয়ে। অপরাধীর মত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আজ এখানে তো কাল সেখানে। অথচ, ২০০১ এ তালেবান পরাজিত হওয়ার পর পেশাগত সাফল্য অর্জন করা অল্প সংখ্যক আফগান নারীর মধ্যে ফারিশতা ছিলেন অন্যতম। ৫ বছর আগে দেশটির সাবেক সরকারের শাসনামলে ফারিশতা আফগানিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। তাকে ধর্ষণসহ নারী-শিশু নির্যাতনকারীদের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিলো। অসংখ্য তালেবান সন্ত্রাসী, ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীকে শাস্তির আওতায় এনেছিলেন ফারিশতা।

কিন্তু গত আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখল করলে দৃশ্যপট বদলে যায়। তালেবান ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই মুক্তি পেয়েছে অসংখ্য অপরাধী, যাদের প্রধান টার্গেট এখন ফারিশতা। শুধু ফারিশতাই নন, আফগানিস্তানে জীবন বাঁচাতে এখন বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অন্তত ২৩০ জন্য নারী বিচারক, যারা বিগত সরকারের আমলে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এসব আইনজীবীর অভিযোগ, তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক সার্চ করেছে তালেবান। এমনকি তাদের আত্মীয়দেরও দেয়া হয়েছে মেরে ফেলার হুমকি। তাদের ধারণা নারী বলেই তাদের প্রতি বেশি উগ্র আচরণ করছে তালেবান।

ফারিশতা সাংবাদিকদের বলেন, মোহাম্মদ গুল নামক এক তালেবান সদস্যকে আমি কারাদণ্ড দিয়েছিলাম ধর্ষণের অভিযোগে। তালেবান তাকে কারামুক্ত করার পরের দিনই সে আমাকে ফোন করে বলেছে যে, তুমি কোথাওই লুকোতে পারবে না, আমি অবশ্যই তোমাকে খুঁজে বের করে প্রতিশোধ নেবো।

এরপর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ফারিশতা। ইতোমধ্যে জমানো অর্থ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে তার। ফলে পালিয়ে লুকিয়ে থাকা এখন আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে ফারিশতার জন্য। এ অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি কবে মিলবে, তা জানা নেই ফারিশতাসহ ২৩০ জন আফগান নারী আইনজীবীর।

/এসএইচ


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply