বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নারীর মৃত্যু, প্রতিবাদ করায় মারধর

|

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের দালাল চক্রের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা মেহেদী হাসান। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার সকালে দিগড় ইউনিয়নের আলুপাকুটিয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

গত মার্চে ওই গ্রামের ফুলজান নামক এক নারী ঝড়ে ছিড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের স্পর্শে মারা যান। এ ঘটনায় বিদ্যুত বিভাগের ওই দালাল চক্র ফুলজান বেগমের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন করতে বাধ্য করে। এ ব্যাপারে কোন আইনগত পদক্ষেপও নিতে দেয়নি ওই চক্র। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন ওই গ্রামের সন্তান মেহেদী হাসান (৩৫)।

মেহেদী হাসানের বোন শাহনাজ পারভীন জানান, আলুপাকুটিয়া গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে মোস্তফা ও তার চাচাত ভাই মৃত রহমান মিয়ার ছেলে আজমত ওরফে পাঙ্গাস এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ এনে দেওয়ার কথা বলে গ্রামের লোকদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী তার ও খুঁটি না দিয়ে নিম্নমানের তার ও বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়। এর ফলে অল্প বাতাসে তার ছিঁড়ে পড়েছিল, যাতে বিদ্যুৎস্পৃৃষ্ট হয়ে ফুলজানের মুত্যু হয়।

এ ঘটনার পর মেহেদী হাসান ফেসবুক ও ব্লগে লেখালেখি করে এবং বিদ্যুতের দালাল চক্রের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষদের প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করেন। এ নিয়ে ওই চক্র মেহেদীকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এক চাচা ও গ্রামের একটি ছেলের সঙ্গে সোমবার সকালে মেহেদী নদীর পাড়ে বসেছিলেন। এসময় মোস্তফাসহ ১০-১২ জন এসে তার উপর হামলা চালায়। মাথাসহ সারা শরীরে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে। লাঠির আঘাতে তার বাম হাত ভেঙে যায়।

মেহেদীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ ঘটনায় মেহেদীর বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মোস্তফাসহ আটজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মোস্তফার ছেলে ফিরোজ (২২), চাচাত ভাই আজমত ওরফে পাঙ্গাস (৪২), মজনু মিয়া (৪৫), আব্দুল লতিফ (৪০), শফিকুল ইসলাম (৪২), ফরজ আলীর ছেলে আপেল (২৫) ও নজরুল (৩৬)।

মামলার তদন্তাকারি কর্মকর্তা ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার পাল জানান, মামলাটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা মেহেদী হাসান ‘দেহঘড়ি’ নামের একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক পত্রিকায় কাজের পাশাপাশি ফেইসবুক ও ব্লগে লেখালেখি করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ২০০৭ সালের অাগস্টে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এ ব্যাপারে আসামি মোস্তফা মুঠোফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য গ্রাম থেকে টাকা তোলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক না। মেহেদীর উপর হামলার সাথে তিনি বা তার কেউ জড়িত নয়।









Leave a reply