স্বাস্থ্যখাতে নতুন সংযোজন ‘হেলথ আইডি’; ব্যবহার সহজ করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

|

উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চালু হচ্ছে হেলথ আইডি। রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অতীতের সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এই আইডির সার্ভারে। ফলে কমে আসবে ভুল চিকিৎসা ও পরীক্ষা খরচ, দাবি স্বাস্থ্য বিভাগের। দেশের সব হাসপাতালকে এই পদ্ধতির আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলেও স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সুফল পেতে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে ব্যবহারের সহজবোধ্যতা।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, চিকিৎসাসেবা সহজ করতেই চালু করা হচ্ছে হেলথ আইডি। জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো এই কার্ডে থাকবে রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ইতিহাস। কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে রোগীর অতীত ও প্রয়োজনীয় তথ্যও দেখতে পাবেন চিকিৎসকরা।

গাজীপুরের বেসরকারি চাকুরিজীবী আব্দুস সাত্তার গত আট বছর যাবৎ একমাত্র ছেলের ইউরেনিয়াল সমস্যা নিয়ে নিয়মিত আসা যাওয়া করছেন হাসপাতালে। চিকিৎসকের পরামর্শে ইকো-কার্ডিওগ্রাফ, ব্লাড ও ইউরিন পরীক্ষা করেছেন বেশ কয়েকবার। রিপোর্ট হারিয়ে ফেলায় পুনরায় পড়তে হয়েছে ঘোরপ্যাঁচে। বলেন, সবগুলো টেস্ট আবারও করতে হলো। কিন্তু সব টেস্ট যদি এক জায়গায় হতো তাহলে ভালো হতো, খরচও বাচতো।

চিকিৎসাসেবা সহজ করতেই চালু করা হচ্ছে হেলথ আইডি, এমনটা জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো এই কার্ডে থাকবে রোগীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ইতিহাস। কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে রোগীর অতীত ও প্রয়োজনীয় তথ্যও দেখতে পাবেন চিকিৎসকরা। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের এই আইডি নিতে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র। আর শিশুদের দেখাতে হবে জন্মসনদ।

ইতোমধ্যে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল এবং মানিকগঞ্জ ও গোপালগঞ্জের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের হেলথ আইডি দেয়ার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, হেলথ কার্ডের সুবিধা নানামুখী। এটা রোগীর ভোগান্তি কমাবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব হাসপাতাল এই পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত হবে বলেও জানিয়েছেন এমআইএস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন।

বলেন, আশা করি এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই আমরা এটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে পারবো। যাদের কাছে এই হেলথ আইডি থাকবে, সে যখন কোনো হাসপাতালে যাবে তাকে কোনো নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না। শুধু আইডি নাম্বার বলার মাধ্যমে পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস দেখে পুনরায় সুনিপুণভাবে তার চিকিৎসা করা হবে।

তবে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ডা. বেনজির আহমেদ বলছেন, সুফল পেতে প্রয়োজন হাসপাতাল ও ফার্মাসিতে এই কার্ডের ব্যবহারবান্ধব পদ্ধতি নিশ্চিত করা। বলেন, যে কোনো প্রযুক্তি নির্ভর করে সেটা কতটুকু বান্ধব তার ওপর।

অর্থাৎ যিনি ব্যবহার করবেন তার কাছে সেটা সহজ হয় কি না সেটাই মূল। এছাড়া এই ধরনের কার্ড অবশ্যই কাম্য। কারণ বাংলাদেশ এখন একটি প্রযুক্তি নির্ভর দেশ হবার আকাঙ্খা রাখে। কিন্তু তিনি প্রত্যাশা করেন, এটা যেন আধাআধি না হয়। সবদিকে যেন লক্ষ্য রেখেই আগানো হয়।

/এমএইচ


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply