মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ হতে বাংলাদেশকে আরও কাজ করতে হবে: যমুনাকে আফরিন

|

সম্প্রতি ঢাকা সফর করে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার। সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি বৈঠক করেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিবেশমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে।

এছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিনিধি দলের সাথেও কথা বলেছেন তারা। আলোচনা করেছেন শ্রমিক অধিকার কর্মীদের সাথে। সাক্ষাৎ হয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও। গেলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের এই হাই প্রোফাইল প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর নিয়ে আফরিন আক্তারের সাথে কথা বলেছেন যমুনা নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু। সেই কথোপকথন তুলে ধরা হলো:

যমুনা নিউজ: ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশে এটা আপনার প্রথম সফর। বাংলাদেশ সরকারের জন্য আপনি কী বার্তা নিয়ে এসেছেন?

আফরিন আক্তার: সাথে আরও দু’জন সহকর্মী এসেছেন, একজন সিকিউরিটি কাউন্সিলের অপরজন উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেন। এখানে সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে একাধিক বৈঠক করেছি। সিভিল সোসাইটি, বিরোধী দলের প্রতিনিধি ও শ্রমিক অধিকার আন্দোলনকারীদের সাথেও কথা বলেছি। বাংলাদেশ সরকারের সাথে অগ্রাধিকার ও দু’দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে একসাথে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিনির্মাণ নিয়ে কথা হয়েছে। এছাড়া শ্রমিক অধিকার, তাদের মজুরি আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভিযোজন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিও আলোচনায় উঠে এসেছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে কথা হয়েছে। বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এখানে আরও অগ্রগতি অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখবে। সামুদ্রিক অর্থনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যু-ও ছিল আলোচনায়। নাগরিক সমাজ যেন কাজ করতে পারে, সেটি যেন সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখে, সে কথা আমরা বলেছি।  এগুলোই আমাদের অগ্রাধিকার এবং তা সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি।

আফরিন আক্তার, ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, পররাষ্ট্র দফতর, যুক্তরাষ্ট্র

যমুনা নিউজ: বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠকে কী আলোচনা হলো?

আফরিন আক্তার:  যুক্তরাষ্ট্র সারা দুনিয়ায় বিরোধী দলের সাথে সম্পর্ক ও আলাপ-আলোচনায় বিশ্বাসী। আমাদের কাছে বাংলাদেশের বিরোধী দলও আলাদা কিছু নয়। পৃথিবীর অনেক দেশে বিরোধী দলকে আমরা যে চোখে দেখি, এখানে বিএনপিকেও সেভাবে বিবেচনা করি। সেই বার্তাই বিএনপি নেতাদের দিয়েছি।

যমুনা নিউজ: আপনি আগেই বলেছেন, এটি উচ্চ পর্যায়ের সফর। ঢাকায় একসাথে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার সফর আগে চোখে পড়েনি। এই সফর কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আফরিন আক্তার: এ ধরনের সফর প্রয়োজন অনুযায়ী হয়। এর আগেও এ দেশে নিরাপত্তা দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি মাইকেল ফ্লিন, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ডোনাল্ড লু সফর করেছেন। এটি ধারাবাহিক কাজের অংশ। আগের মতো এবারের সফরেও আমরা একই রকম বার্তা নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে চাই আমরা। রোহিঙ্গা ইস্যুও আমাদের অগ্রাধিকারে। তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবো।

যমুনা নিউজ: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার ইস্যুগুলো কী?

আফরিন আক্তার: সবচেয়ে গুরুত্বের জায়গায় রোহিঙ্গা ইস্যু। বাংলাদেশ গণহত্যার হাত থেকে তাদের রক্ষা করেছে। ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কক্সবাজারে অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। আমরা রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধান চাই।

এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমরা গুরুত্ব দেই। এখানে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী। মার্কিন বাজার বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নে যা বড় ভূমিকা রাখছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো ও বিনিয়োগ সুরক্ষার মতো ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ।

বাইডেন প্রশাসন বৈশ্বিক শ্রম নীতিমালা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশেও শ্রমিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। নিরাপত্তা ইস্যুটিও আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যমুনা নিউজ: রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রতিবছরই কমছে। এটা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই উদ্বেগের। যুক্তরাষ্ট্র কী এই সহায়তা বাড়াতে পারে?

আফরিন আক্তার: কেবল রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, যেখানে মানবিক সঙ্কট, সেখানেই সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। তবে কেবল আমরা করলেই হবে না, অন্য উন্নয়ন সহযোগীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

যমুনা নিউজ: চলমান মিয়ানমার সঙ্কটকে আপনারা কীভাবে দেখেন? এটির কারণে বাংলাদেশকেও ভুগতে হচ্ছে।

আফরিন আক্তার : মিয়ানমারের সংকটের পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস। এর মূলে দীর্ঘমেয়াদি গণহত্যা। জাতিসংঘ ও আমরা একমত, মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও তাদের বাহিনী রোহিঙ্গাসহ অন্য জাতিগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ যে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও চালানো যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশও যথাসম্ভব সহায়তা করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে যা ঘটছে, সেদিকে সতর্ক নজর আছে আমাদের। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সংঘাত কমাতে সংলাপসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে যেটা ঘটছে, তা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে। বাংলাদেশের সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজ করছি। গণহত্যা থেকে রক্ষা করে রোহিঙ্গাদের থাকার জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি টেকসই রোহিঙ্গা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

যমুনা নিউজ: যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের কাছে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) বাস্তবায়ন কেন অগ্রাধিকার? সে কাজে  বাংলাদেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ আপনাদের কাছে?

আফরিন আক্তার: আইপিএসে এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইন্দো-প্যাসিফিকের দিক থেকে বাংলাদেশ আমাদের কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও আমাদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ দেশের মানুষের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল নিয়ে কাজ করছি।

যমুনা নিউজ: বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি নিয়ে কি সঠিক পথে আছে? বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

আফরিন আক্তার: বাংলাদেশ যথাযথ কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্বের জায়গা থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজিকে বিবেচনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আসলে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি, সমৃদ্ধির জন্য এই উদ্যোগ। দুই দেশের এই ইস্যুতে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ আছে।

যমুনা নিউজ: বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কতটা আগ্রহী?

আফরিন আক্তার: আমি আগেই গুরুত্ব দিয়ে বলেছি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করছে। এ দেশে  যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী। এখানকার জ্বালানি খাতকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখি আমরা। আমাদের কোম্পানিগুলো গভীর সমুদ্রে জ্বালানির অনুসন্ধানে আগ্রহী। সেই সাথে এ দেশের  নবায়নযোগ্য জ্বালানিখাতে আমরা বিনিয়োগ করতে চাই। যুক্তরাষ্ট্র সৌর ও বায়ু বিদ্যুতে বিনিয়োগে আগ্রহী। বাংলাদেশকে এ খাতে সহায়তা দিতেও প্রস্তুত। জ্বালানিখাত টেকসই ও নিরাপদ করতে এদিকে নজর দিতে হবে বাংলাদেশকে।

যমুনা নিউজ: শ্রম অধিকার নিয়ে জানতে চাই। বাংলাদেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতিকে কীভাকে মূল্যায়ন করবেন?

আফরিন আক্তার: আগেই বলেছি, প্রেসিডেন্ট বাইডেন বৈশ্বিক শ্রম অধিকার আইন অনুমোদন করেছেন। শ্রম অধিকার বৈশ্বিক ইস্যু এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আমরা সেভাবেই  বিবেচনা করি। আমার সহকর্মী শ্রমিক অধিকারকর্মীদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেই শ্রমিক সংগঠকরা বলেছেন, তারা নানা রকম বঞ্চনার শিকার। তাই বাংলাদেশ সরকারের সাথে এ ক্ষেত্রে আমরা একযোগে কাজ করবো। সেখানে শ্রমিক সংগঠক, ব্যবসায়ী সবাই থাকবেন। ইপিজেডগুলোতে শ্রমিক ইউনিয়নকে নিবন্ধন করা, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া, মত প্রকাশের স্বাধীনতা-এসব বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দেই। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ঘোষণা নিয়ে বাংলাদেশের ভয়ের কারণ নেই। তিনি সব শ্রমিককে সমান চোখে দেখার কথা বলেছেন। আমরা শ্রম পরিবেশ, শ্রমিকের জীবনমান, মজুরি, সুবিধার পক্ষেই কথা বলবো। আশা, শ্রমিকদের জন্য কল্যাণকর সবকিছুই বাংলাদেশ করবে।

যমুনা নিউজ: আপনাদের বিবেচনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ কতটা স্বাধীন? তাদের কারও সাথে কথা বলেছেন আপনি?

আফরিন আক্তার: দুঃখের সাথে বলছি, এ ইস্যুতে অনেক সময়ই এমন কিছু দেখতে পাই, যা আমাদের ব্যথিত করে। মুক্তমতের চিন্তা গণতন্ত্রের মধ্যেই নিহিত বলে মনে করি। আসলে স্বাধীন নাগরিক সমাজ ও মুক্ত গণমাধ্যম সমাজের ইতিবাচক অনুষঙ্গ। এগুলো থাকলে পুরো সমাজ উপকৃত হয়। যখন একজন ব্যক্তি তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়, সেটা সবার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আমরা বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সিভিল সোসাইটিকে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি, যাবো।

যমুনা নিউজ: যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনার ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি কি পেয়েছেন?

আফরিন আক্তার: নিরাপদ, সাশ্রয়ী, বহুযাত্রী পরিবহণে সক্ষমতা থাকায় বোয়িং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মেরামত, সংস্কার সহজ এবং যন্ত্রাংশ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য। আবার বিমান চালানোর ক্ষেত্রে টেকসইও বটে। গোটা দুনিয়াকে তাই আমরা বোয়িংয়ের ব্যবহার বাড়াতে চাই। আমি মনে করি, বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক দিক বিবেচনায় বোয়িং কেনা উচিত। 

যমুনা নিউজ: মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এ দেশে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে?

আফরিন আক্তার: বাংলাদেশ খুবই সম্ভাবনাময় বাজার। আমাদের বিনিয়োগকারীরা এখানে ব্যবসা ও নতুন নতুন বিনিয়োগে খুবই আগ্রহী। মার্কিনিরা এখানে জ্বালানিখাতে বিনিয়োগ করেছে। আমাদের কিছু বন্ধু তৈরি পোশাকখাতেও বিনিয়োগ করেছে। সেগুলো ভালোই চলছে। তবে কিছু জটিলতা আছে এখানে। আমলাতান্ত্রিকতা এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। মুনাফা ভাগাভাগি নিয়েও কিছু জটিলতার কথা আমরা শুনেছি। সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা আসতে চায়। পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিনিয়োগকারী এ দেশে আসবে।

যমুনা নিউজ: আপনার এসব পর্যবেক্ষণ কি বৈঠকে জানিয়েছেন?

আফরিন আক্তার: হ্যা ,অবশ্যই আমরা শেয়ার করেছি।

যমুনা নিউজ: সামরিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতার বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে? এটা কি ভবিষ্যতে আরও বাড়বে?

আফরিন আক্তার: আমরা যৌথভাবে সামরিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অনেক কাজ করেছি। চলমান আছে অনেকগুলো কাজ। আমরা সামরিক খাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছি। এটা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমরা বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী কার্যক্রমকে বিশ্বব্যাপী সহায়তা করি। জিসোমিয়া চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দু’দেশের সামরিক সম্পর্ক নতুন ধাপে উন্নীত হবে। সামরিক প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে যৌথভাবে কাজ করছি আমরা। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সামরিক সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। বিমান ও নৌ বাহিনীর সাথে যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়াও হচ্ছে নিয়মিত। আমরা জিসোমিয়া চুক্তিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। প্রয়োজনে দুই দেশ আরও নতুন নতুন সামরিক চুক্তি করবে, গুরুত্ব বিবেচনায়।

যমুনা নিউজ: প্রত্যেক কূটনৈতিক সম্পর্কেই নানা চ্যালেঞ্জ থাকে। এই মুহূর্তে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চ্যালেঞ্জগুলো কী?

আফরিন আক্তার: দু’দেশই পারস্পারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে কাজ করি, এগিয়ে যাই। যেটা আমাদের দু’দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের ভিত্তিকে মজবুত করেছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, মুক্ত সমাজ বিনির্মাণ আমাদের কাছে মূখ্য বিষয়। এ দেশের সমৃদ্ধি আনার পথেও একসাথে কাজ করবো। আমরা শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন করে শিল্পখাতকে টেকসই ও সমৃদ্ধ করতে চাই। আরও কিছু সামরিক চুক্তি আমাদের নিরাপত্তা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আমরা বদ্ধপরিকর। এখানে অনেক কাজ করার আছে। আমরা কাজ করতে চাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে। একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ হতে বাংলাদেশকে আরও কাজ করতে হবে।

যমুনা নিউজ: বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্রের দু’জন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

আফরিন আক্তার: আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সহকর্মীর বিষয়টি আমরা দেখেছি, সরকারকে জানিয়েছি। তারা এটা নিয়ে কাজ করছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা একসাথেই কাজ করবো। মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে তার নাগরিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে প্রাধান্য পাবে। এখন বা ভবিষ্যতে আমাদের কর্মীর নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যমুনা নিউজ: আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।

আফরিন আক্তার: আপনাকে ও যমুনা টিভিকেও কৃতজ্ঞতা।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply