গরুর মাংস নিয়ে পোল্যান্ডের সাথে ইইউর টানাপোড়েন

|

গরুর মাংস নিয়ে পোল্যান্ডের সাথে ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পোল্যান্ড থেকে মাংস আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইইউ। তদারকির জন্য প্রতিনিধিও পাঠানো হয়েছে দেশটিতে। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে পোল্যান্ডের কসাইখানার বেহাল দশা ফুটে ওঠে। যাতে, পঁচা-অস্বাস্থ্যকর মাংস প্রক্রিয়াজাত করতে দেখা যায়।

ইউরোপের মাংস রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম পোল্যান্ড। দেশটিতে বছরে গড়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টন গরুর মাংস উৎপাদিত হয়। যার প্রায় ৮৫ শতাংশই রফতানি হয় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি এবং জার্মানিতে।

সম্প্রতি দেশটির একটি গণমাধ্যমে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। যাতে দেখা যায়, প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য অসুস্থ্য গরু থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে মাংস। কোনো রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই জবাই করা হয় এসব পশু। পচা মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের চিত্রও উঠে আসে।

এ ঘটনার পর স্বভাবতই ক্ষুব্ধ পোল্যান্ড থেকে মাংস আমদানিকারক দেশগুলো। মাংস রফতানিতে দেশটির ওপর কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেয় ইউরোপিয়ান কাউন্সিল।

ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী দিদিয়ের জিলিয়েমো বলেন, আমরা প্রায় এক হাজার কেজি মাংস জব্দের নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টি পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। দেশটি থেকে সবধরণের মাংস এবং মাংসজাত দ্রব্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। রোগাক্রান্ত পশুর মাংস কিংবা খাবার অযোগ্য মাংস রফতানি করাটা চরম অপরাধ। এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেবো না।

ইউরোপিয়ান কমিশনের মুখপাত্র আনসা পাদুরারো বলেন, আমরা পোল্যান্ডে তদন্ত কর্মকর্তা পাঠিয়েছি। যেসব অঞ্চলে গবাদি পশুর খামার এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে সেখানে তদন্ত চালানো হবে। জনমানুষের স্বাস্থ্যগত বিষয় এটি, হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

পোল্যান্ডের পশু গবেষণা কর্মকর্তা পাওয়েল নিমজুশক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো শিল্পকে দোষারোপ করা একেবারেই যুক্তিহীন। আমাদের দেশের মাংস নিরাপদ, এটা নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই।

পোল্যান্ড ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র-ব্রাজিল এবং ভারত থেকেও গরুর মাংস আমদানি করে ইউরোপের দেশগুলো।









Leave a reply