পুরোদমে চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি

|

গাজীপুর প্রতিনিধি:

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে পুরোদমে চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্ততির কাজ। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব। বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে তাই ময়দানের প্রস্তুতি কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। প্রতিবছর ৩ দিন করে দুই দফায় হলেও এবারই ২দিন করে বিরতিহীন ভাবে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

প্রথম পর্বে ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ওলামা মাশায়েখ তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বি ও কাকরাইল জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জোবায়ের আহমেদের অনুসারী মুসল্লিরা অংশ নিবেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়ে প্রথম পর্বে আগত মুসল্লিরা রাতের মধ্যে ময়দান ত্যাগ করবেন।

পরে মাওলানা সা’দ আহমাদের অনুসারী মুসল্লিরা আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রোববার বাদ ফজর থেকে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নিবেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যাহ্নের পূর্বে যেকোনো এক সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে দুই পর্ব ২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমা। প্রতি পর্ব ইজতেমা কার্যক্রম শেষে জিম্মাদারগণ ময়দানের দায়িত্ব প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে যাবেন।

শনিবার ইজতেমা ময়দান সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইজতেমাকে সামনে রেখে এগিয়ে চলছে সবধরণের প্রস্তুতির কাজ। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ময়দানে কাজ করছেন। প্যান্ডেল তৈরির কাজ, রাস্তা মেরামত, মাইক টানানো, টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ময়দানের আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন আগত মুসল্লিরা। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

রাজধানীর কুড়িল বিশ্ব রোড এলাকার মো. আব্দুল আলিম ১’শ জন ইজতেমার সাথী ভাই নিয়ে ময়দানে কাজ করতে এসেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর মেহমানরা ইবাদত বন্দেগি করতে আসবেন। তারা যেন সুন্দরভাবে ইবাদত বন্দেগি করতে পারেন সেই দিক খেয়াল রেখে ময়দানের কাজ করে যাচ্ছি। টঙ্গীর মধুমিতা এলাকার মুসল্লি মো. শাহ্ আলম, খোরশেদ আলম, জসিম মাতাবর, মো. রাসেল জানান, বিদেশী মেহমানদের কামরা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছি। যাতে বিদেশী মেহমানরা ইজতেমা ময়দানে এসে কোন প্রকার কষ্ট না পান।

ইজতেমা ময়দানের (সাফাই) পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কমিটির জিম্মাদার ফকির আতাউর রহমান জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগের মতো ময়দানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরের আগে যেকোনো একসময় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে প্রথমপর্বের ইজতেমা। তবে শুক্রবার থেকে ইজতেমা শুরু হলেও বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকেই আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে আম বয়ান শুরু হবে।

 আরেক মুসল্লি আতাউর রহমান (৬০) জানান, আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য ২০০১ সাল থেকে ইজতেমা মাঠে কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় দুনিয়াবী কাজে মগ্ন থাকি। আখিরাতের নেকী হাসিলের উদ্দেশ্যে ইজতেমা ময়দানে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে এসেছি। ঢাকার মিরপুর থেকে ২’শ মুসল্লি আসছে ইজতেমা মাঠে সেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে।

উল্লেখ্য, তাবলিগ অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিগত ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা তিনদিন করে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসাছিল। এবার যোবায়ের ও সা’দ গ্রুপের মধ্যে সমস্যা দেখা দেয়ায় এবারও দুই র্পবে ইজতেমা হচ্ছে। প্রথম পর্ব আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ওলামাশায়েকে (যোবায়ের) গ্রুপের বিশ্ব ইজতেমা। ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে সা’দ গ্রুপের ইজতেমা ১৮ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০১৯ সালের দুই গ্রুপের দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা।









Leave a reply