ভ্যাট আরোপ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব ও আমিরাত

|

‘ট্যাক্সের চাপে চ্যাপ্টা’! এই হলো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে সাধারণ মানুষের অনুভূতি। কিন্তু উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাগরিকদের এতদিন এই অনুভূতি ছিলো না। সরকারকে তাদের কোনো ট্যাক্স দিতে হতো না। উল্টো কিছু দেশে (যেমন কাতার) সরকারই নিজের খরচে করে দেয় নাগরিকদের সব কাজ। এমনকি প্রবাসীরাও ছিলেন ট্যাক্স বা করের আওতার বাইরে।

সেই উপসাগরীয় অঞ্চলেই এখন ট্যাক্সের বোঝা চাপতে যাচ্ছে নাগরিকদের ওপর। আগামী বছর থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম ট্যাক্স আরোপ করতে যাচ্ছে। বিভিন্ন পণ্যে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে সবাইকে। বার্তা সংস্থা এপি এ খবর দিয়েছে।

তেলের দাম কমছে বিগত কয়েক বছর ধরে। তার সাথে কমছে তেলের উৎপাদনও। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তাই আগের মতো ‘মুক্তহস্তে’ চলার দিন ফুরিয়েছে। সরকারকে এখন থেকেই সতর্ক হতে হচ্ছে আগামী দশকে তেল উৎপাদন শূন্যের কোটায় পৌঁছালে কিভাবে দেশ চালাবে।

সৌদি আরব, আমিরাত, কাতারসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো ইতোমধ্যে ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি তেলের বাইরে থেকে কিভাবে আয় বৃদ্ধি করা যায় সেই পথে হাঁটছে। বিশ্ব মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) বারবার চাপ দিচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে বিকল্প আয়ের পথ বের করার। তারই অংশ হিসেবে ট্যাক্স আরোপের এই সিদ্ধান্ত।

এদিকে এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সৌদি ও আমিরাতের নাগরিকদের মধ্যে। তাদের মতে, ইতোমধ্যে উচ্চমূল্যের কারণে তাদেরকে চাপে পড়তে হচ্ছে। তার উপর করারোপের ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে।

১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া সিদ্ধান্তে আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার ব্যয় আড়াই শতাংশ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে কারো কারো মতে, ৫ শতাংশ ভ্যাট খুব বেশি কিছু নয়। কারণ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রচলিত আছে। এছাড়া বড় মূল্যের কেনাবেচা ও সেবা যেমন- ঘরবাড়ি কেনা, বিশেষ রকমের স্বাস্থ্যসেবা, স্কুল কলেজের টিউশন ফি, জমি কেনাবেচা ইত্যাদি ভ্যাটের আওতামুক্ত থাকবে।









Leave a reply