ক্রন্দনরত মেয়েকে চীনা নার্সের প্রতীকী আলিঙ্গনের যে ভিডিওটি মানুষকে কাঁদিয়েছে

|

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনাভাইরাস আতঙ্ক। চীনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ হুবেইয়ের শহর উহান থেকেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। ফলে, চীনকে কঠিন দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এই শহরে হাজার হাজার করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবার যেমন অজানা শঙ্কায় দিন পার করছেন, তেমনি চিকিৎসাসেবা যারা দিচ্ছেন তারাও ঠিকমতো খাওয়া কিংবা ঘুমানোর সময়টুকু পাচ্ছেন না। করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবা দেয়ার কারণে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন থাকতে হচ্ছে তাদের।

টানা পরিশ্রমে অনেকের চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। সার্বক্ষণিক মাস্ক পরে থাকায় চেহারাটাই যেন বদলে গেছে তাদের। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও, কাঁদিয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সেবা দেয়া এক নার্স ও তার মেয়েকে নিয়ে। রোগীদের সেবা দিতে টানা ১০ দিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর তার ৯ বছরের মেয়ে ও তার স্বামী তাকে দেখতে যান। কিন্তু কাছে যাওয়ার নিয়ম নেই তাদের। যদি সংক্রমণ ঘটে ভাইরাসের! তাই হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ে ও স্বামীর সঙ্গে কথোপকথন হচ্ছে তার।

ক্রন্দনরত মেয়েকে বলতে শোনা গেছে, মা তুমি দ্রুত আমাদের মাঝে ফিরে এসো। তোমাকে ছেড়ে থাকতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।

জবাবে সেই নার্সও কাঁদতে কাঁদতে মেয়েকে বলেছেন, মা, আমরা এখানে দানবের (করোনাভাইরাস) সঙ্গে লড়াই করছি। এ লড়াইয়ে জয়ী হয়েই তবে আমি তোমাদের মাঝে ফিরবো।

ভিডিওর এক পর্যায়ে মা ও মেয়েকে দূর থেকে প্রতীকী আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। পরে মেয়ে মায়ের জন্য বক্সে আনা কিছু খাবার মাটিতে রেখে যায়। এ সময় মা পেছনে সরে যায়। পরে মেয়ে পেছনে সরে গেলে এগিয়ে গিয়ে খাবার নেয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনাটি চীনের হনান শহরের একটি হাসপাতালের সামনে ধারণ করা। ওই নার্সের নাম লিউ হাইয়ান। তার ৯ বছরের মেয়ের নাম চেং শিওয়েন। করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করলে গত মাসে ৩৯ জন মেডিকেল স্টাফের সঙ্গে লিউ হাইয়ানকে শহরের ফুগোউ কান্ট্রি পিপলস হাসপাতালে তাকে ডেকে নেয়া হয়।

Chinese nurse in coronavirus-hit hospital gives her sobbing daughter "air hug"

A Chinese nurse in a coronavirus-hit hospital in Henan Province gives her sobbing daughter an "air hug." #coronavirus

Gepostet von China Xinhua News am Dienstag, 4. Februar 2020









Leave a reply