সৌদি আরবে উন্মুক্ত চলচ্চিত্র যুগের শুরু

|

আলো কমে আসতেই মুহুর্মুহু করতালিতে ফেটে পড়লেন হলের ভেতরের নারী পুরুষ। পর্দা উঠলো সৌদি আরবের প্রথম মাল্টিপ্লেক্সের। অবসান হলো ৪ যুগের দীর্ঘ প্রতীক্ষার।

পরিবর্তনের যে হাওয়া সৌদি আরবে বইছে, তাতে বড় একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে এই মুহূর্তটি। সৌদি নারীরা গাড়ি চালাতে পারছে, দেশে এখন নিয়মিত কনসার্ট আর ফ্যাশন শো হচ্ছে। সবশেষে তারা এখন পপকর্ন হাতে নিয়ে সিনেমা হলেও ঢুকতে শুরু করেছে।

একুশ শতকে সৌদি আরবের প্রেক্ষাগৃহে প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হলো হলিউডের ব্লকবাস্টার সুপারহিরো মুভি ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’। প্রদর্শনীতে আসা রাহাফ আলহেন্দি নামে এক দর্শক বলেন, ব্যাপারটা খুব সহজ; সৌদি আরব নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে। সবকিছু বদলে যাচ্ছে, উন্নয়ন হচ্ছে। সব শৃঙ্খল ছিন্ন হচ্ছে, গোটা পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে প্রস্তুত আমরা।

সেন্সর বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষেই চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে সৌদি আরবে। বুধবারের প্রিমিয়ারেও তার ব্যত্যয় হয়নি। ব্ল্যাক প্যানথার সিনেমার মারামারির দৃশ্যগুলো অক্ষত থাকলেও কাটা পড়েছে ছবির শেষভাগে চুম্বনের দৃশ্য।

প্রদর্শনীর আগে আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে এএমসি এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম অ্যারোন বলেন, সৌদি আরবের জন্য এটা একটা ঐতিহাসিক দিন। ৩৭টি বছর পর আপনারা সবাই দল বেধে বড় পর্দায় সিনেমা দেখতে পারছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এএমসি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রেক্ষাগৃহ পরিচালক। মাত্র ২ সপ্তাহ আগে তারা সৌদি যুবরাজের সাথে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে একটা কনসার্ট হলকে তারা মুভি থিয়েটারে রুপান্তরিত করেছে।

অ্যারোন জানান, কনসার্ট স্টাইলের আসন সরিয়ে দিয়ে আরামদায়ক গদীর আসন বানানো হবে। একই কমপ্লেক্সে আরও তিনটি মুভি থিয়েটার করা হবে যাতে দিনে ৫ হাজার মানুষ সিনেমা দেখতে পারে।

সৌদি সংস্কৃতি ও তথ্যমন্ত্রী আওয়াদ আল আওয়াদ বলেন, সরকার দেশের ইসলামিক মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের জন্য সচেষ্ট। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, এখানে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলো আমাদের সংস্কৃতি ও মূলবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেই সাথে দর্শককেও দিতে চাই বিনোদন উপভোগের সর্বোচ্চ সুযোগ। সৌদি সমাজের অনুশাসন মেনে কিছু প্রদর্শনী শুধুমাত্র পরিবার কিংবা শুধুই পুরুষের জন্য নির্ধারিত থাকবে।

সৌদি সরকারের হিসেবমতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শুরুর ফলে বছরে ৯০ বিলিয়ন রিয়াল রাজস্ব আয় হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ এই খাতে কর্মসংস্থান হবে ৩০ হাজার মানুষের। অবশ্য সেই সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে ৩০০টি মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যাতে মুভি থিয়েটার থাকবে প্রায় ২ হাজার।

আশির দশকের গোড়ার দিকে সৌদি আরবে রক্ষণশীলতার যে ঢেউ লাগে, তাতে বন্ধ হয়ে যায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতাদের মতে পশ্চিমা চলচ্চিত্র তো বটেই, মিশর আর লেবাননের মতো আরব দেশের চলচ্চিত্র দেখাও পাপ।

যুগের পর যুগ ধরে চলা রক্ষণশীলতার চাদর ভেদ করে সমাজ বদলের মিশনে নেমেছেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। স্বভাবতই এতে বাদশাহ সালমানেরও সমর্থন রয়েছে।

এতোদিন কোন সৌদি নিবাসীর সিনেমা দেখার ইচ্ছা পুরণ করতো ছুটির দিনে বাইরাইন বা আরব আমিরাতে বেড়াতে গিয়ে। এখন আর তাদের এতো ভোগান্তি পোহাতে হবে না। ঘরের দুয়ারেই মিলবে বিনোদনের এই আকর্ষনীয় উপকরণ।









Leave a reply