কেউ মারা গেলে দাফন করা নিয়েও সংকটে তিস্তা অববাহিকার মানুষ

|

স্টাফ করেসপনডেন্ট, রংপুর:

ষষ্ঠ দফায় বন্যায় ধুকছে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ। এবারের বন্যায় লাশ দাফন করা নিয়ে মহাজটিলতার সাক্ষী হয়ে থাকলো তিস্তাপাড়ের মানুষ। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে পোকামাকর উতপাত ও রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব। এমনকি সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারা নিয়েও বিপাকে দুর্গত মানুষ।

গত মাসেই মাসে তিস্তার পানি বিপদসীমা পেরিয়েছে ৬ বার। এর মধ্যে গেলো সপ্তাহের পানিবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি। লোকালয়ের কোথাও কোমড় পানি, কোথাও গলা অবধি; আবার কোথাও পানি লেগে আছে বৈশাখ মাস থেকেই। নিজ বাড়িতে থাকা খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই অববাহিকার মানুষের।

কেউ মারা গেলে তার দাফন করা নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। চারিদিকে থৈথৈ পানির কারণে লাশ দাফন করার জায়গা তো পাওয়া যায়ই না, এমনকি লাশ গোসল করানোর উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই হয়ে পড়ে কঠিন।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই অন্য কোথাও গিয়ে বাস করতে শুরু করেছে। তবে অন্যত্র যাওয়ার সুযোগ যাদের নেই, বানের জলে খাটের ওপর খাট বিছিয়ে দ্বিগুণ উঁচু করেই থাকতে হয় তাদের। কিন্তু খাট উঁচু হলেও সাপখোপসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রবে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর উপায় নেই।

ইতোমধ্যে এলাকার যারা দুইমাস থেকে পানিবন্দি তাদের অধিকাংশের পায়েই দেখা দিয়েছে ঘা, আক্রন্ত হচ্ছেন পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে। টয়লেটে পানি উঠে যাওয়ায় প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারা নিয়েও মহাবিপাকে পড়েছেন মানুষ। সমস্যায় পড়েছেন গবাদি পশুর মালিকরাও। যেখানে মানুষের সুরক্ষাই অনিশ্চিত, সেখানে গবাদি পশুর জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ থাকার জায়গা নিশ্চিত করা আরও কঠিন।

তিস্তার ডানতীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণে একটি বাঁধের দাবি প্রায় পাঁচ দশকের, কিন্তু মেলেনি সমাধান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এ নিয়ে ক্ষুব্ধ।

/এডব্লিউ


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply