কুমিরের পিঠে ঘুরে বেড়ায় যে গ্রামবাসীরা!

|

কুমিরের বড় দাত আর শক্তিশালী দেহের কারণে একে ভয়ংকর প্রাণি হিসেবেই দেখে। তাই হয়তো প্রবাদ আছে, জলে কুমিড় ডাঙায় বাঘ। কিন্তু এই কুমিরের পিঠেই ঘুরে বেড়ায় গ্রামবাসী, শিশুরা। এমনকি কুমিরের মৃত্যু হলে, মানুষের মতোই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে গ্রামবাসীরা। এই কুমির মানুষের সখ্যতা চলে আসছে পাচশত বছর থেকে। হ্যা, অদ্ভুত  এ গ্রামের নাম বাজুলা যা আফ্রিকার দেশ বারকুনো ফাসোর রাজধানী শহর ওইগাডোগো থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে।

জানা যায়, কুমির ও মানুষের এই সম্পর্ক চলে আসছে সেই ১৫ শতক থেকে। কথিত আছে,  কোনও এক সময়ে বাজুলায় প্রবল খরা দেখা দেয়। মানুষ যখন জলকষ্টে ভুগছিলেন, তখন গ্রামের মহিলাদের একটি গুপ্ত জলাশয়ের কাছে নিয়ে যায় এই কুমিররা। তারপর থেকেই এই কুমির-মানুষের এই অসম বন্ধুত্ব ।

এখানে প্রতি বছর ‘কুম লাকরে’ নামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গ্রামবাসীরা। তখন হ্রদের কুমিরদের খাওয়ানো হয় অনেক কিছু, যাতে তারা গ্রামবাসীকে আশীর্বাদ করে সুখ-সমৃদ্ধির জন্য।

এছাড়া গ্রামবাসীরা মনে করেন, এই কুমিরের মধ্যেই রয়েছে তাঁদের পূর্বপুরুষের আত্মা। তাই  কোনও কুমিরের মৃত্যু হলে, মানুষের মতোই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে গ্রামবাসীরা।

এদিকে গ্রামবাসী ও কুমিরের বন্ধুত্ব দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসে ভ্রমণপিপাসুরা। প্রতিবছর দশ হাজারের বেশি পর্যটক আসে এখানে।









Leave a reply