মোহসীন-উল হাকিমের ‘সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ দস্যুদের রূপান্তরের গল্প’

|

অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মোহসীন-উল হাকিমের বই ‘সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ দস্যুদের রূপান্তরের গল্প’। এরআগে প্রকাশিত হয়েছিল তার ‘সুন্দরবনের জলদস্যুদের জীবনে ফেরার গল্প’ বইটি।

সুন্দরবন কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প বিকাশ লাভ করছে। উপকূলীয় খেটে খাওয়া জেলে আর মাওয়ালদের কর্মময় নিরাপদ জীবন নিশ্চিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতি এক সময় ছিল ভাবনার অতীত। গডফাদারদের ছত্রছায়ায় বন উজাড় হচ্ছিল, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকতো জেলেদের মাছ আহরণও। বিস্তৃত ছিল বিভিন্ন নামে গড়ে ওঠা ‘দস্যু বাহিনী’। যাদের ত্রাসে জেলে আর মাওয়ালরাই শুধু নয়, পর্যটকরাও সাহস পেতো না গহীন সুন্দরবনে ঢুকতে।

সেই ভয়াল পরিস্থিতি আজ নেই। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়। এখন সেখানে পর্যটকরা যাচ্ছেন, জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা অর্জন করছেন। সরকারের রাজস্ব বাড়ছে। কারও মাঝে কোনো ভয় নেই, কোথাও কোনো ঝঞ্ঝাট নেই। এ অবস্থা একদিনে হয়নি। অনেক শ্রম আর ত্যাগের সুবাদেই বর্তমান সুন্দরবন।

সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করার পেছনে যে মানুষটি নিরলসভাবে কাজ করেছেন, যার অবদান সবচেয়ে বেশি, তিনি হচ্ছেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক মোহসীন-উল হাকিম। জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকা সম্পর্কে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি জলদস্যুদের নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরেন। জানতে পারেন, এসব জলদস্যুরা নিজের সিদ্ধান্তে খুশিমনে দস্যুতায় জড়ায়নি। সামাজিক নানা সমস্যায় পড়ে নানা কারণে এ পেশায় আসে তারা। যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ ছিল না। কেউ দলছুট হলে তাকে জীবন দিতে হতো। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সেই পথ তৈরি করার কারিগর মোহসীন।

কয়েক বছরের চেষ্টায় বনদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয় অভিজ্ঞ এই গণমাধ্যমকর্মীর। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে রাজি করান মোহসীন। তাদের রাজি করানো যতোটা সহজ ছিল, তার বাস্তবায়ন ছিল ততোটাই কঠিন। সেখানকার গডফাদাররা তার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। জীবনের হুমকি পেয়েছেন অসংখ্যবার। প্রশাসনকে রাজি করানোর মতো ভারী চ্যালেঞ্জ ছিল তার সামনে। সবকিছুর সুরাহা করে তিনি বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থা করেন। কাতারে কাতারে বনদস্যুরা ফিরে আসে স্বাভাবিক জীবনে। এরপরও বহু চ্যালেঞ্জ উৎরাতে হয়েছে মোহসীন-উল হাকিমকে।

এসব অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন তিনি। পাঠকের মাঝে বিপুল সাড়া পড়ে। অবশেষে প্রকাশিত হয় তার ‘সুন্দরবনের জলদস্যুদের জীবনে ফেরার গল্প’। তারই পরম্পরায় এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ‘সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ দস্যুদের রূপান্তরের গল্প’। বইটি প্রকাশ করেছে ইউপিএল।

/এএম


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply