প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ: দুদক সচিব

|

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন। পাশাপাশি ডিআইজি মিজানের যেসব আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠেছে প্রয়োজনে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এ তথ্য জানান দুদক সচিব। অন্যদিকে, ডিআইজি মিজান বলেন, আমার সম্পদের সকল তথ্য বিবরণী যথাযথভাবে উপস্থাপন করা আছে। আমি সে বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে তুলে ধরেছি।

এর আগে, সকাল ৯টার দিকে ডিআইজি মিজান দুদক কার্যালয়ে হাজির হন। সাড়ে ৯টার দিকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। গত ২৪ এপ্রিল ডিআইজি মিজানকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নোটিশ দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা।

জানা যায়, কোটি টাকা খরচ করে গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে গড়েছেন বিশাল অট্টালিকা গড়েছেন ডিআইজি মিজান। এলাকার মানুষ যেটির নাম দিয়েছে, ডিআইজি সাহেবের “স্বর্ণকমল”। এছাড়া, ভাইয়ের নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, ভাগ্নের নামে বাণিজ্যিক স্পেস, স্ত্রীর নামে আলিশান ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। কানাডার ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন সন্তানের।

মেহেন্দিগঞ্জের ছোট একটি ফার্মেসি ব্যবসায়ী ডিআইজি মিজানের একমাত্র ভাই মাহবুবুর রহমান স্বপন। অথচ ঢাকার বেইলি রোডে তার নামেই রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান নোমান শিক্ষানবিশ এসআই হিসেবে কর্মরত ঢাকার কোতয়ালী থানায়। কাকরাইলে তার নামেও আছে বাণিজ্যিক স্পেস। নিজের দু’সন্তানের একজন পড়ালেখা করেন কানাডার ব্যয়বহুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্ত্রীর নামে গুলশানের পুলিশ প্লাজায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দামি ফ্ল্যাট আছে উত্তরায়।

নামে-বেনামে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি থাকার অভিযোগ আছে পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চাকরি জীবনে বান্ধবীদের দিয়েছেন হাত উজাড় করে। এছাড়া পূর্বাচলে প্লট, সাভারের পুলিশ কলোনিতে ফ্ল্যাটও আছে ডিআইজি মিজানের ।

নামে-বেনামে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনি ডিআইজি মিজানের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদের তথ্য চেয়ে এনবিআর, বিভিন্ন ব্যাংক, ভূমি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে চিঠি পাঠান। সেসব দফতর থেকে তথ্য আসার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়া হয়।

ডিআইজি মিজানুর রহমান ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নৈতিক স্খলনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এ বছরের জানুয়ারিতে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply