বিজেপি নেতারা হঠাৎ করে ‘চৌকিদার’ হয়ে গেলেন কেন?

|

ভোটের আগে বদলে ফেললেন নাম ৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই পথ অনুসরণ করলেন সবাই ৷ এবার থেকে সকলের নামের আগে বসে গেল ‘চৌকিদার’ শব্দটি ৷ অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদির নাম বদলে হল ‘চৌকিদার নরেন্দ্র মোদি’ ৷ একইভাবে অমিত শাহ হলেন ‘চৌকিদার অমিত শাহ’, রেলমন্ত্রী হলে ‘চৌকিদার পীযূশ গোয়েল’ ৷ পুরো বিষয়টাই ঘটলো টুইটারে। মানে, বাস্তব জীবনে সবাই যার যার আগের মতো থাকলেও টুইটারে হয়ে গেলেন চৌকিদার!

গতকাল শনিবারই #MainBhiChowkidar বলে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলেন মোদি ৷ এই মর্মে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন তিনি ৷ তাতে বলেছিলেন, শুধু তিনি নন, জাতীয় স্বার্থে এমন অনেক চৌকিদার রয়েছেন যার দেশকে বাঁচাতে বদ্ধপরিকর ৷ তাই তো নিজেদের নামের আগে সকলেই প্রায় বসিয়ে নিয়েছেন চৌকিদার শব্দটি!

চৌকিদার নিয়ে মাতামাতি শুরু হয় গত মাসে। রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে সরকারপক্ষ জানায়, ক্রয় সংক্রান্ত সব নথিপত্র চুরি হয়ে গেছে! বিরোধীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে মোদি ও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিলো, রাফায়েল কেনায় বড় পুকুরচুরি হয়েছে।

আদালতে নথি চুরির অজুহাত দেয়ার পরই বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সোচ্চার হন দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তিনি টুইটারে লেখেন বলেন, ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’। এটা দিয়ে তিনি একইসাথে দুটি অর্থ ইঙ্গিত করেছেন বলে অনেকের মত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র চুরি হয় কিভাবে? চৌকিদার ছাড়া ছিল নাকি মন্ত্রণালয়ের গেট, বা নথিপত্র রাখার জায়গাটি? তেমনটা থাকার যেহেতু কথা না, তাহলে তো চৌকিদার নিজেই চোর! নাহলে নথি যাবে কোথায়!

অবশ্য এইখানে ‘চৌকিদার’ বলতে মোদির দিকেই ইঙ্গিত রাহুলের!

রাহুলের প্রচারকে কাউন্টার দিতে মোদিপক্ষ এখন নেমেছে পাল্টা কৌশল নিয়ে। ‘চোর’ বা ‘চুরি’ প্রসঙ্গটি ফেলে দিয়ে শুধু চৌকিদার অংশকে নিজেদের জন্য বেঁছে নিয়েছেন তারা। চৌকিদারির চাকরিটাকে উপমহাদেশে ছোট চোখে দেখা হয়। নির্বাচনের আগে সমাজের নিম্ন শ্রেণির মানুষের আবেগ টানতেই মূলত ‘ম্যা ভি চৌকিদার’ (আমিও চৌকিদার) ক্যাম্পেইন শুরু করলো ক্ষমতাসীনরা।









Leave a reply