টাকা নয়, তথ্য না থাকায় র‌্যাংকিংয়ে জায়গা হয়নি ঢাবির, জানালেন উপাচার্য

|

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ জল ঘোলা হয়েছে। বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য এবং কারো বক্তব্যের ‘বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন’ আলোচনাকে আরও গোলমেলে করেছে।

এরমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান গত শুক্রবার এক ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন।

র‌্যাংকিং ইস্যুতে কাউকে অভিযুক্ত না করে অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে অনেকে শেয়ার করছেন। অধ্যাপক আখতার র‌্যাংকিং সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল না তুলে বলেছেন, ওদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়নি।

সম্প্রতি একটি বাংলা অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবায়েতুল ইসলাম লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, র‌্যাংকিং সংস্থা ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’কে ৪৫ হাজার ডলার ‘ফি’ না দেয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তারা র‌্যাংকিংয়ে রাখেনি। কিন্তু প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর অধ্যাপক শিবলী অস্বীকার করেছেন যে, তিনি এমন কিছু বলেননি। টাইমস হায়ার এডুকেশন ঢাবির কাছে টাকা চেয়েছে এমন বক্তব্য তিনি দেননি। বরং ভিন্ন একটি সংস্থার কথা বলেছিলেন তিনি।

নিজের ফেসবুক পোস্টে গত ১৮ মে তিনি লিখেন, “কোন পত্রিকায় নয় , একটা ইফতার অনুষ্ঠানে বললাম AACSB accreditation করার অভিজ্ঞতা এবং খরচের কথা, খবরে আসলো অন্য নাম আর তারপর …।”

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান গত শুক্রবারের অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে বলেন, ‘গতকাল লন্ডনভিত্তিক ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ র‌্যাংকিংয়ের একজন প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে কথা বলে জানালেন, আমরা যদি তথ্য দেই তাহলে তারা আমলে নিয়ে আমাদেরকে মূল্যায়ন করবেন। তার মানে হলো আমাদের তথ্যগুলো/ডাটাগুলো তাদের কাছে নেই। তবে আগামীতে সেগুলো তাদের কাছে উপস্থাপন করা হলে র‌্যাংকিংয়ে আওতাভুক্ত হবে।’

এখানে ঢাবি ভিসি টাইমস হায়ার এডুকেশনের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার কথা বলেননি।

তিনি আরও বলেন, ‘কিউএস’ র‌্যাংকিং প্রতিবছর ফ্রি সোর্সেরভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়ন করে থাকে। গতকাল তারা জরিপ প্রকাশ করেছে কিন্তু আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে প্রতিবছর চিঠি দিয়ে জানায়। এ বছর আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার মধ্যে ১২৭তম।

অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘র‍্যাঙ্কিংয়ের উৎপত্তি হয়েছিল একটি কমার্শিয়াল ভেনচার নিয়ে। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত এবং তার পেছনের বাজেট র‍্যাঙ্কিং একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সেই মানদণ্ডে রাশিয়ার অনেক নামকরা অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকে না। কারণ অন্য। বিভিন্ন বিবেচনায় র‍্যাঙ্কিংগুলোর উৎপত্তি হয়েছিল। র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান করার জন্য লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের প্রতিবছরই কিছু প্রয়াস ও উদ্যোগ থাকে, যাতে তাদের অবস্থানটা সব সময় ওপরে থাকে। এর মানে হলো এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সেরা সেরা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আকৃষ্ট করতে পারে। একই মানদণ্ড বিবেচনায় রেখে যখন মূল্যায়ন করা হয় এবং একটি কমার্শিয়াল ভেনচার মাথায় থাকে, তখন আমাদের কুলিয়ে ওঠা কঠিন হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং ডাকসু নেতাদের মতামত আমলে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে ড. আখতারুজ্জামান বলেন, এই সকল মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রতিফলন ঘটুক। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় ৪০০ এর মধ্যে আছে কি ৫০০ এর মধ্যে নাই, ১২৭তম আছে কি ১০ এর মধ্যে নাই সেটি নয়। আমরা চাই ক্রমান্বয়ে উপরে উঠতে, ক্রম অগ্রগতি, ক্রম উন্নয়ন ঘটাতে। সেটি যদি ঘটাতে চায় তাহলে এইখানে অভিমত ব্যক্ত হয়েছে সেই অভিমতসমূহের প্রতিফলন রাখতে হবে।









Leave a reply